পৃথিবী থেকে মুছে গেল আরও একটি প্রাচীন জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব। চলে গেলেন ব্রাজিল আমাজনে বসবাসকারী জুমা উপজাতীর শেষ পুরুষ আরুকি। সম্প্রতি কোভিড-এ আক্রান্ত হওয়ার পর মারা যান তিনি। তবে ‘জুমা’ সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছেন তাঁর নাতি-নাতনিরা।

তাঁর বয়সের ব্যাপারে সঠিকভাবে কোনো তথ্যই নথিভুক্ত নেই। আনুমানিক ৮৬-৯০ বছর বয়স হয়েছিল তাঁর। জীবদ্দশায় গোটা জুমা গোষ্ঠীর পতন এবং ‘সভ্য’ মানুষের হিংস্রতার সাক্ষী থেকেছেন আরুকি। দেখেছেন ‘সভ্যতা’ কীভাবে নিজের স্বার্থে মুছে দিতে পারে একটা গোটা জনগোষ্ঠীকে। বিশ শতকের গোড়ার দিকে যখন তিনি কিশোর, সেইসময় এই জনজাতির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ হাজার। ১৯৯০ সালে সেই সংখ্যা এসে দাঁড়ায় মাত্র ৬ জনে। শুধুমাত্র নিজের পরিবারকেই বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন আরুকি।

দক্ষিণ ব্রাজিলের অ্যামাজনাস প্রদেশে গভীর জঙ্গলে ‘সাম্রাজ্য’ ছিল জুমা উপজাতির। মৎস্য ও অন্যান্য শিকারের ওপর নির্ভর করেই মূলত দিনযাপন করতেন তাঁরা। বিশ শতকের শুরুর দিক থেকেই বিশ্ব জুড়ে হঠাৎ বৃদ্ধি পায় রাবারের চাহিদা। গোটা জুমা অঞ্চলজুড়ে যে ছড়িয়ে রয়েছে প্রচুর রাবার গাছ, তা নজরে আসতে দেরি হয়নি ট্যাপারদের। আর তারপরই শুরু হয় সংঘর্ষ। চলতে থাকে উচ্ছেদের প্রক্রিয়া। তবে চুপ ছিলেন না তাঁরাও। বেছে নিয়েছিলেন সশস্ত্র আন্দোলনের পথ। কিন্তু আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে কী পেরে উঠতে পারে প্রাচীন অস্ত্র? পারেওনি।

একাধিকবার গণহত্যার ছায়া নেমে এসেছিল জুমা গ্রামগুলিতে। আর তাঁদের অস্তিত্বে শেষ পেরেক পুঁতেছিল মারাত্মক এক সংক্রামক রোগ। যা ইচ্ছাকৃতভাবেই ছড়িয়েছিল রাবার ট্যাপাররা। কোনোমতে সেখান থেকে পরিবার নিয়ে পালিয়ে বেঁচেছিলেন আরুকি।

ব্রাজিল সরকারের মতে, এখনও পর্যন্ত কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন মোট ৫৭২ জন উপজাতি জনগোষ্ঠীর মানুষ। তবে একটি স্বাধীন আদিবাসী সংস্থার পরিসংখ্যানে সংখ্যাটা এর প্রায় দ্বিগুণ। আর কোভিডের শিকার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তিই প্রবীণ। বিষয় হল তাঁদের মৃত্যুতে যেন আরও শেষের দিকে এগিয়ে চলেছে এই সংস্কৃতিগুলি। কেন না, তাঁরাই ছিলেন এই সকল জনগোষ্ঠীর ইতিহাস এবং জ্ঞানের আধার। মুখে মুখে তা ছড়িয়ে দিতেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে।