নিউজপোল ডেস্ক: মহাশ্বেতা দেবী একাধিক বার ভারতের উপজাতি মানুষদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। ২০১৬ সালের জুন মাসে তাঁর আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ঝাড়খণ্ড সরকার বিশিষ্ট আদিবাসী নেতা বিরসা মুন্ডার একটি মূর্তিকে শৃঙ্খলামুক্ত করে। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের শাসনকালে গৃহীত শৃঙ্খলিত বিরসা মুন্ডার একটি আলোকচিত্রের ভিত্তিতে মূর্তিটি নির্মিত হয়েছিল। ১৯৭৭ সালে বিরসা মুন্ডার জীবনকাহিনি অবলম্বনে মহাশ্বেতা দেবী অরণ্যের অধিকার উপন্যাসটি রচনা করেছিলেন।

মহাশ্বেতা দেবী বাম সরকারের শিল্পনীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে প্রথম সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কৃষকদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে উর্বর কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে তা অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে শিল্পপতিদের দিয়ে দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। সেই সময়ের বিরোধী নেত্রীকে তিনি মেয়ের মতোই দেখতেন। নন্দীগ্রাম আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের বিতর্কিত জমি অধিগ্রহণ নীতির বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, লেখক ও নাট্যকর্মীকে এক করেন।

মহাশ্বেতা দেবীর জন্ম ১৪ জানুয়ারি ১৯২৬ এবং ২০১৬ সালে আজকের দিনে মৃত্যু হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস– হাজার চুরাশির মা, রুদালি, অরণ্যের অধিকার ইত্যাদি। সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার, র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার-সহ একাধিক সাহিত্য পুরস্কার এবং ভারতের চতুর্থ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান যথাক্রমে পদ্মশ্রী ও পদ্মবিভূষণ লাভ করেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সম্মান বঙ্গবিভূষণে সম্মান জানায়।

১৯৪৭ সালে বিশিষ্ট নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যকে বিয়ে করেন। বিজন ভট্টাচার্য ছিলেন ভারতীয় গণনাট্য সংঘ আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও পথপ্রদর্শক। ১৯৪৮ সালে ছলে নবারুণ ভট্টাচার্যের জন্ম। নবারুণ-ও পরবর্তীতে সাহিত্য রচনায় প্রবেশ করেন। এক সময় বিজনের সঙ্গে এরপর তার বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং ১৯৬২ সালে অসিত গুপ্তকে বিয়ে করেন মহাশ্বেতা।

মহাশ্বেতা দেবীর ১০০টিরও বেশি উপন্যাস এবং ২০টিরও বেশি ছোটোগল্প সংকলন রয়েছে। একাধিক ভাষায় তাঁর লেখে অনুবাদ হয়েছে। তাঁর প্রথম উপন্যাস ঝাঁসির রানি ঝাঁসির রানির (লক্ষ্মীবাই) জীবনী অবলম্বনে রচিত। প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে। এই উপন্যাসটি রচনার আগে তিনি ঝাঁসি অঞ্চলে গিয়ে তার রচনার উপাদান হিসেবে স্থানীয় অধিবাসীদের কাছ থেকে তথ্য ও লোকগীতি সংগ্রহ করেছিলেন।
তথ্যঋণ: উইকিপিডিয়া