নিউজপোল ডেস্ক: সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি অভিনব ঘটনা সামনে এসেছে। গত ৩ জানুয়ারি আইনি বিরোধ মেটাতে চেয়ে এক ব্যাক্তি, তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে তরবারি যুদ্ধের অনুমতি চেয়ে বিচারকের দ্বারস্থ হয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস প্রদেশের বাসিন্দা ডেভিড অস্ট্রোম নামে ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তির অভিযোগ, হারলান এর বাসিন্দা তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী ব্রিগেট অস্ট্রোম(৩৮) এবং তাঁর আইনজীবী ম্যাথু হাডসন তাঁকে ‘আইনিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন’। সম্পত্তি দেখভাল এবং রক্ষনাবেক্ষণ প্রসঙ্গে আইনি মামলায় জড়িয়েছেন অস্ট্রোম দম্পতি।
বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আইনে যেহেতু ‘ট্রায়াল বাই কমব্যাট’ এখনো স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি, তাই তাকে যেন তলোয়ার লড়াইয়ের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করতে আইনিভাবেই অনুমতি দেওয়া হয়।’
‘ট্রায়াল বাই কমব্যাট’ হল অপরাধী নির্ধারণের বেশ পুরনো এক পদ্ধতি। প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্য ও গ্রেট ব্রিটেন অঞ্চলে কোনও অপরাধের ঘটনায় সাক্ষী না থাকলে বিবাদমান দু’পক্ষের দু’জন প্রতিনিধির মধ্যে ‘তলোয়ার লড়াই’ হতো। লড়াইয়ে বিজয়ী পক্ষের বক্তব্যকেই সত্য বলে ধরে নেওয়া হতো। ষোড়শ শতাব্দীর পর থেকে এই বিচারপদ্ধতি লুপ্ত হয়।
নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে জাপান থেকে সামুরাই তলোয়ার এনে তা চালানোর প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য বিচারকের কাছে ১২ সপ্তাহ সময় চেয়েছেন অস্ট্রোম। কানসাসের স্থানীয় এক পত্রিকাকে তিনি জানান, মিস্টার হার্ডসন নামে তার প্রাক্তন স্ত্রীর আইনজীবী আদালতে অদ্ভুত আচরণ করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘তলোয়ার লড়াইয়ে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী চাইলে প্রতিপক্ষ হিসেবে ওই আইনজীবীকে দাঁড় করিয়ে দিতে পারেন।’

তবে এমন লড়াইয়ে আইনি নিষ্পত্তি খুঁজতে গিয়ে দুজনই মারা যেতে পারেন, এই আশঙ্কায় আইনজীবী হার্ডসন এই অনুরোধটি খারিজ করে দেওয়ার জন্য বিচারককে অনুরোধ করেন। দু’পক্ষের মধ্যেই ‘সমস্যা ও অনিয়ম’ থাকায় খুব দ্রুত কোনও সিদ্ধান্ত দিতে অস্বীকার করেছেন বিচারক ক্রেইগ ড্রেইজমেইয়ার। আদালতে তিনি বলেন, ‘যথাযথ প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা পর্যন্ত আদালত কোনও সিদ্ধান্ত জারি করবে না।’