‘মঙ্গল পান্ডে: দ্য রাইজিং’ ছবির মধ্যে দিয়ে ৪ বছর পর আমির খানের আশ্চর্য প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল। ছবিটি রিলিজ করে ২০০৫ সালে। ছবিতে সিপাহী মঙ্গল পান্ডের ভূমিকায় অভিনয় করেন আমির খান। মঙ্গল পান্ডের চরিত্রে নিখুঁত ভাবে অভিনয়ের জন্য বেশ খাটতে হয়েছিল নায়ককে। এর জন্য নিজেকে একটু একটু করে প্রস্তুত করেছিলেন আমির। এই ছবির চার বছর আগে ২০০১ সালে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর ছবি ‘দিল চাহতা হ্যা’।

কেতন মেহতা পরিচালিত মঙ্গল পান্ডে ছবিটি সেই সময় বক্স অফিস মাতিয়েছিল। আমির খান ছাড়াও অভিনয়ে ছিলেন রানি মুখার্জি, অমিশা প্যাটেল, টবি স্টিফেন্স, কিরণ খের-সহ আরও অনেকে। একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই ছবিটি ভারত মাতার বিপ্লবী সন্তান মঙ্গল পান্ডের জীবন অবলম্বনে তৈরি হয়েছিল। ছবিতে আমির খানের দুর্দান্ত অভিনয় এখনও মানুষ ভুলে যায়নি। ফলস চুল পরা পছন্দ করতেন বলে সময় নিয়ে চুল বড় করেছিলেন অভিনেতা। এর জন্য ছবি তৈরিও বেশ সময় লেগেছিল পরিচালকের।

মঙ্গল পান্ডের জীবনের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা এই ছবি আজও দর্শককে অনুপ্রাণিত করে। ১৮২৭ সালে আজকের দিনে মঙ্গল পান্ডে জন্মেছিলেন। প্রথম জীবনে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ৩৪তম বেঙ্গল নেটিভ ইনফ্যান্ট্রি (বিএনআই) সৈন্যদলের (রেজিমেন্টের) সিপাহি ছিলেন। পরে অবশ্য নিজের দেশের জন্য ইংরেজদের বিরোধিতা করেছিলেন।

সেই সময় বিশ্বাসঘাতক বলে চিহ্নিত করলেও মঙ্গল পাণ্ডে ভারতকে স্বাধীন করার জন্য দুঃসাহসিক কার্যকলাপ করেছিলেন। ১৮৫৭ সালের ৮ এপ্রিল তাঁর ফাঁসি হয়। পান্ডের মধ্যে দিয়েই সিপাহি বিদ্রোহের বীজ ছড়িয়ে পড়েছিল সারা ভারতে। একাধিক চলচ্চিত্রে মঙ্গল পান্ডের জীবনী উঠে এলেও ‘মঙ্গল পান্ডে: দ্য রাইজিং’ ছবিতে তাঁর জীবন সংগ্রামকে নিবিড় ভাবে দেখানো হয়েছে।

১৯৮৪ সালে ভারত সরকার মঙ্গল পান্ডেকে স্মরণ করে তাঁর ছবিযুক্ত ডাকটিকিট তৈরি করে। ওই টিকিটের নকশা করেছিলেন শিল্পী সি আর পাকরাশি। ব্যারাকপুরে ব্রিটিশ সেনাদের যে ছাউনিতে মঙ্গল পাণ্ডে আক্রমণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে তাঁর স্মৃতিতে শহীদ মঙ্গল পান্ডে মহাউদ্যান গড়ে উঠেছে। এর পর ব্যারাকপুর সেনা ক্যাম্প এলাকায় তাঁর একটি আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়। জায়গাটি এখন মঙ্গল পাণ্ডে বাগান নামে পরিচিত।