রাজা ভট্টাচার্য:‌ আমার বাবা যখন সম্পূর্ণ বিনা নোটিসে আমাকে ছেড়ে চলে গেলেন, তারপর ছাব্বিশ বছর কেটে গেছে। তৎসত্ত্বেও আমার কানে স্পষ্ট ভেসে আসে সদ্য-কলেজ-ফেরত বাবার উত্তেজিত কণ্ঠস্বর—‘‌জানিস, টাউন হলে মারীচ সংবাদ আসছে! উফ, কতদিন পর আবার দেখব! তোকেও নিয়ে যাব এবার। দেখবি, কাকে বলে নাটক।’‌ দেখে ফেললাম, সেই অতিখ্যাত নাটক বাবার পাশে বসে। সেদিনের সেই মুগ্ধতা আজও যেন আঙুল বাড়ালে ছুঁতে পারি। দুই মহাশক্তিধর সিস্টেমের মধ্যে পড়ে গিয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া এক সাধারণ মানুষের ‘চক্রে-পিষ্ট আঁধারের বক্ষফাটা তারার ক্রন্দন’ আর ইহজন্মে ভোলা হবে না। ‘এগোলে রাম মারবে, না এগোলে রাবণ’— উভয়সংকটের সমার্থক হয়ে গেছে রামায়ণের মারীচ চরিত্রটি। বাল্মীকির ভাষায় তিনি মায়াবী, যাদুকর। আমাদের কাছে তাঁর প্রধান গুণ ছদ্মবেশ ধারণের অপরিসীম নৈপুণ্য। স্বয়ং রাম বা সীতাও অতি নিকট থেকে দেখেও চিনতে পারেননি তাঁর ছলাবরণ। এই ছদ্মবেশী সোনার হরিণটিই হয়ে দাঁড়াল রামকাহিনীর নিয়ন্তা। কিন্তু কে এই মারীচ! কেন আজ হঠাৎ এই অসহায় নিশাচরটিকে নিয়ে আলোচনায় বসলাম আমরা?
আসলে, এই মারীচের যে একটি শোচনীয় অতীত আছে, সে খবর কমই রাখি আমরা। রামের প্রথম বীরত্বের প্রকাশ আমাদের মনে আছে। সেই তাড়কা রাক্ষসীর বিরুদ্ধে তাঁর বিখ্যাত যুদ্ধ! মারীচের মায়ায় বিভ্রান্ত হলেও, তাঁকেও হত্যা করেন রাম। এ ঘটনাও আমরা ভুলিনি। শুধু খেয়াল করি না, এই দু’‌টি আপাত-অসংলগ্ন বিষয়ের মধ্যে আছে এক সূক্ষ্ম সূত্র। মারীচ। এবার একটু নিকটদৃষ্টিতে দেখে নেওয়া যাক তাঁর বিচিত্র জীবনকথা।
সুকেতু নামের এক সদাচারী যক্ষের কোনও সন্তান ছিল না। ব্রহ্মার তপস্যা করার ফলে তাঁর একটি কন্যা জন্মায়। তার নাম তাড়কা। ব্রহ্মা তাকে সহস্র হস্তীর বল দান করেন। মেয়ে বড় হলে সুকেতু তাকে বিয়ে দিলেন সুন্দ-র সঙ্গে। (এই সুন্দ এবং নিকুম্ভের পুত্র সুন্দ-উপসুন্দের মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই কিন্তু) এই সুন্দ এবং তাড়কার একমাত্র পুত্রের নাম মারীচ।
মারীচের পিতা সুন্দ কিছুদিন পরেই কোনও কারণে (‌যা বাল্মীকি উল্লেখ করতে বিস্মৃত হয়েছেন)‌ অগস্ত্যের শাপে নিহত হলেন। সদ্যবিধবা তাড়কা ক্রুদ্ধ হয়ে অগস্ত্যকে আক্রমণ করতে গেলেন, মারীচ স্বভাবতই মায়ের সঙ্গ নিলেন। অগস্ত্য তাড়কার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে অভিশাপ দিলেন, ‘‌এই মুহূর্তে তোর রূপ বিকৃত হোক, তুই ভীষণদর্শন বিকৃতমুখী রাক্ষসী হ!’‌ সঙ্গী মারীচও অগস্ত্যের কোপ থেকে রক্ষা পেল না। সে–ও শাপগ্রস্ত হয়ে রাক্ষস হল। ‘‌রাক্ষসত্বং ভজস্বেতি মারীচং ব্যাজহার সঃ।’‌ এইবার মাতাপুত্রের অত্যাচারে চারপাশের বনভূমি ত্রস্ত হয়ে উঠল। মলদ ও করুষ নামের জনপদ দু’টি পরিত্যক্ত হয়ে গেল। এমনকী,‌ অগস্ত্যের আশ্রমের মুনিরাও তপস্যাভঙ্গ করে পলায়ন করলেন।
ঠিক এই অবস্থায় বিশ্বামিত্র গিয়ে উপস্থিত হলেন দশরথের সভায়৷ অযোধ্যাপতির তীব্র অনিচ্ছাসত্ত্বেও তিনি বালকবয়সী রাম এবং লক্ষ্মণকে নিয়ে এলেন এই অভিযানে। পথে দান করলেন বলা ও অতিবলা মন্ত্র। যার প্রসাদে রাম পরমজ্ঞানী এবং মহাবীর হয়ে উঠলেন। তারপরেই এল সেই আদেশ। তাড়কা অগস্ত্যের, মুনি-ঋষিদের, যাগযজ্ঞের, এবং ফলতঃ বিশ্বামিত্রেরও পরম শত্রু। তাকে হত্যা করো। রাম পাছে নারীহত্যায় ইতস্তত করেন, তাই পূর্বাহ্নেই বিশ্বামিত্র বলে দিলেন, পুরাকালে ইন্দ্র এবং বিষ্ণু এই কর্মের উদাহরণ রেখেই গেছেন। সুতরাং নারীহত্যায় লজ্জাজনক কিছু নেই, এ কর্ম তেমন অভূতপূর্ব কিছুই নয়। অবশ্য রামের মধ্যেও আমরা এমন কোনও দ্বিধা দেখতে পাই না। তিনি বরং পরে কিঞ্চিৎ দ্বিধান্বিত হয়েছিলেন। যখন চারিদিক ধূলিঝড়ে আচ্ছন্ন করে আক্রমণ করল তাড়কা স্বয়ং। রাম তখন লক্ষ্মণকে বললেন, এই ভীষণদর্শনা রাক্ষসীকে তিনি হত্যা করতে চান না। বরং এর নাক–কান কেটে নেওয়া যাক। দেখা যাচ্ছে, বিশেষত নারীদের অপমান করার জন্য কান এবং নাসিকাগ্র ছেদন করা (‌অর্থাৎ বিরূপ করে দেওয়া, এই দুই ভ্রাতার অভ্যাস!)। কার্যকালে অবশ্য রাম আগে তাড়কার দুই হাত কেটে ফেললেন। লক্ষ্মণ তার নাক-কান কেটে ফেললেন। এবং শেষ পর্যন্ত বাণবিদ্ধ হয়ে তাড়কা প্রাণত্যাগ করল।
স্পষ্টত, সুকেতুর মৃত্যুর কোনও কারণ পর্যন্ত উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করলেন না বাল্মীকি। অগস্ত্য প্রথম বিন্ধ্যের দক্ষিণে আর্যসভ্যতার আলো ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, এমন একটা প্রবাদ পূর্ব থেকেই চলিত আছে। উত্তরকাণ্ডে তাঁকে ‘দক্ষিণদেশবাসী ঋষি’ বলা হয়েছে। সেই বলদর্পিত আর্যত্বের রথচক্রের নীচে যে অমন অসংখ্য অসুর-রাক্ষস পিষ্ট হয়ে যাবে, সেটা তো স্বাভাবিক। তার প্রতিশোধকামী স্ত্রী যে রাক্ষসীতে পরিণত হবেন, এবং আর্যত্বের নূতন অগ্রদূত রাম তাকে হত্যা করবেন, সেটাও যে নিতান্ত ‘কো-ল্যাটারাল ড্যামেজ’, তাও বোঝা গেল। প্রশ্ন হল, মারীচের কী হলো? সে যে নিতান্ত শৈশবেই অনাথ হয়ে গেল, মহাকাব্যের দুরন্ত গতি ও রাজকীয় আড়ম্বরের দ্যুতিতে চমকিত আমরা সেকথা খেয়ালই করি না!
রাম অবশ্য মারীচকে হত্যা করেননি সম্ভবত বালক বিবেচনাতেই। এক ভয়ংকর শরাঘাতে তিনি তাকে নিক্ষেপ করেছিলেন শত যোজন দূরে, সমুদ্রের মধ্যে। ভীত মারীচ পলায়ন করেছিল লঙ্কায়। এরপর দীর্ঘকাল আমরা তাকে আর দেখতে পাই না, যতদিন না রাম পিতৃসত্য পালনের জন্য বনবাসে আসেন। তখন মারীচ পূর্ণবয়স্ক, এবং তাঁর রাক্ষস-সত্বার পূর্ণ বিকাশ ঘটেছে। এক ভয়ংকর মাংসভুক পশুর রূপ ধরে দণ্ডকারণ্যে তিনি তখন যজ্ঞনাশ করে বেড়াচ্ছেন, নির্বিচারে বধ করছেন তপস্যারত মুনিদের। অরণ্যের অধিকার নিয়ে অন্ত্যজের লড়াই তো আজকের কথা নয়! রাম দণ্ডকারণ্যে এসে পৌঁছলেন, এবং প্রতিশোধস্পৃহায় উন্মত্ত মারীচ অপর দুই রাক্ষস-সহ তাঁকে আক্রমণ করতে গেলেন। কিন্তু রাম যেমুহূর্তে ধনুকে কালান্তক তিনটি বাণ যোজনা করলেন— মারীচের মনে ফিরে এল শৈশবের সেই মারাত্মক স্মৃতি। দ্রুত পলায়ন করলেন তিনি। স্বয়ং প্রাণে বেঁচে গেলেন বটে, তাঁর দুই সহচরেরই মৃত্যু ঘটল তাঁর চোখের সামনেই৷
এই ঘটনাই মারীচের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। সন্ন্যাস নিয়ে, আশ্রম নির্মাণ করে সেখানেই তপস্বীর জীবন কাটাতে লাগলেন তিনি। এই কাহিনিতে তাঁর আর ফিরে আসারই কথা নয়। যদি না রাবণ সীতাহরণের স্বার্থে তাঁকে, তাঁর ছদ্মবেশ ধারণের চমকপ্রদ ক্ষমতাকে ব্যবহার করতে চাইতেন। অকম্পন নামের এক ভগ্নদূতের কাছ থেকে জনস্থানের যুদ্ধবৃত্তান্ত এবং খর ও দূষণের মৃত্যুসংবাদ শুনে (লক্ষ্য করুন, শূর্পণখার উল্লেখমাত্র করিনি আমি।) ক্রুদ্ধ রাবণ প্রথমেই গেলেন মারীচের কাছে। তপস্বী মারীচ তীব্রভাবে প্রতিবাদ করলেন রাবণের পরিকল্পনার, অর্থাৎ হরিণের ছদ্মবেশে রামকে ছলনা করার চেষ্টার, এবং রাবণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। স্পষ্ট জানালেন, রাবণের চরেরা অপদার্থ, তারা রামের বীরত্বের সংবাদ রাবণকে দিতে পারেনি। সেই ভয়াবহ বীরত্ব, যা মারীচ দু’বার মৃত্যুর সম্মুখে দাঁড়িয়ে জেনেছেন, তার বিবরণ দিলেন মারীচ। চেষ্টা করলেন রাবণকে সংযত করার।
কিন্তু শূর্পণখার প্ররোচনায় সেই সৎপরামর্শ গ্রহণ করলেন না রাবণ। আবার তিনি ফিরে এলেন মারীচের আশ্রমে। এবার পরামর্শ নিতে নয়, আদেশ দিতে। ‘‌তুমি রজতবিন্দু দিয়ে চিত্রিত স্বর্ণমৃগ হয়ে রামের আশ্রমে যাও, সীতাকে প্রলুব্ধ করো।’‌ মারীচ আবার তীক্ষ্ণস্বরে তাঁকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেন। রাবণের এই একটি ভয়াবহ ভুলই যে সমগ্র রাক্ষসজাতিকে বিনষ্ট করতে পারে, সেই সতর্কবার্তা দিলেন স্পষ্ট করে। কিন্তু মৃত্যুকামী মানুষ যেমন ঔষধ প্রত্যাখ্যান করে, তেমনই রাবণের সদুপদেশে রুচি হলো না—‘উক্তো ন প্রতিজগ্রাহ মর্ত্তুকাম ইবৌষধম্।’ তারপরেই এল সেই অমোঘ বার্তা—‘‌রামের কাছে গেলে তোমার প্রাণসংশয় ঘটবে। কিন্তু আমার কথা অগ্রাহ্য করলে এখনই তোমার মৃত্যু নিশ্চিত। এইবার বিবেচনা করো, মারীচ, তুমি কোনটা করতে চাও।’‌
হ্যাঁ, আমরা জানি, মারীচ কোনটা করেছিলেন। ধারণ করেছিলেন সেই অনুপম ছদ্মবেশ, যেমন হরিণ কেউ কখনও দেখেনি। মহাপ্রাজ্ঞ লক্ষ্মণ তবুও সেই ছদ্মবেশ ছিন্ন করে তাঁর প্রকৃত রূপ অনুমান করতে পেরেছিলেন। কিন্তু সীতার আতুর বাসনার সামনে বুদ্ধি হারিয়েছিলেন রাম স্বয়ং। তারপর সেই পশ্চাদ্ধাবন, শরসন্ধান এবং মারীচের চিৎকার — এ সকলই আমরা জানি। মৃত্যুকালে অবশ্য মারীচের ছদ্মবেশ আর ছিল না। রাক্ষস হিসেবে জন্মাননি তিনি, কিন্তু মৃত্যুতে রাম তাঁকে দেখলেন একজন রাক্ষসের বিকট মূর্তিতেই।
অজানা কারণে পিতার মৃত্যু, প্রতিশোধ নিতে গিয়ে মাতার এবং নিজের বিকৃত দেহ, এবং চোখের সামনে মাতার নিষ্করুণ অঙ্গচ্ছেদ দেখার পর যে কোনও পুত্রেরই ‘রাক্ষস মারীচ’ হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক কি না, সেকথা থাক। লক্ষ্মণ মায়ামৃগ দেখে সন্দিহান হয়েছিলেন। এও জানিয়েছিলেন, পশুর বেশ ধারণ করে মৃগয়া করতে আসা রাজাদের বিভ্রান্ত করে বধ করা মারীচের পুরাতন খেলা। কিন্তু আমরা মারীচের প্রসঙ্গ আলোচনা শেষ করব সম্পূর্ণ অন্য এক অনালোকিত দিকে দৃষ্টিপাত করব।
রাবণের কাছে রামের বৃত্তান্ত বলতে গিয়ে মারীচ শুধু তাঁর বলের বা মহাপরাক্রমশালী বীর্যবত্তারই প্রশংসা করেননি। অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছিলেন তাঁর চরিত্রবলেরও। ‘‌রামো বিগ্রহবান্ ধর্ম্মঃ সাধুঃ সত্যপরাক্রমঃ। রাজা সর্ব্বস্য লোকস্য দেবানামিব বাসবঃ।’‌ অর্থাৎ, রাম সাক্ষাৎ ধর্মদেবতা, সাধু, প্রকৃত বীর। ইন্দ্র যেমন দেবতাদের রাজা, রাম তেমনই সমস্ত লোকের রাজা। প্রশ্ন হলো, তাহলে সেই রামের সর্বনাশ করার জন্য মারীচ কেন রাজি হলেন? যখন তিনি জানেন, এই কাজ করলে রাম তাঁকে নিশ্চিতভাবেই হত্যা করবেন, এবং সীতাহরণ রাবণেরও মৃত্যুর কারণ হবে। কেন মারীচ আদৌ এই কর্মে সম্মত হলেন? আর যদি বা সম্মত হলেন, কেন তিনি নিশ্চিত মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে ‘‌হা সীতা! হা লক্ষ্মণ!’‌ বলে রামের এবং সীতার সর্বনাশ নিশ্চিত করে গেলেন? কেন এত শ্রদ্ধা সত্ত্বেও রামকে এমন মহাসংকটে ফেললেন তিনি? রাবণের হাতেই তো মৃত্যুবরণ করতে পারতেন তিনি!
এই প্রশ্নের একটিমাত্র সম্ভাব্য সমাধান আমাদের মনে হতে পারে। তা এই— মৃত্যুর ঠিক পূর্বে, সেই অমোঘ অন্তিম মুহূর্তে, অনিবার্য অন্ধকার ঘনিয়ে আসার অনিকেত ক্ষণে মারীচের কি মনে পড়ে গিয়েছিল মায়ের কথা? ছেলেবেলা থেকে যে ভয়ংকর মুখটা আমাদের ভয় দেখায়, সেই রাক্ষুসে মুখটা তো মারীচের কাছে নিছক মাতৃমূর্তিই ছিল! রামের বীরত্ব নিঃসন্দেহে তাঁকে ভীত করেছিল। রাবণের কাছে সে কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন তিনি। সেই ভয় মারীচকে তাড়া করে বেরিয়েছে বহুকাল, উপহার দিয়েছে বহু বিনিদ্র রাত। এমনকি ঘুমের ঘোরেও তিনি স্বপ্ন দেখেছেন সেই রামেরই কালান্তক মূর্তি। ‘‌দৃষ্ট্বা স্বপ্নগতং রামমুদভ্রমামীব চেতনঃ।” কিন্তু সেও তো মৃত্যুভয়ই! তাই, যখন সেই মৃত্যু নিশ্চিত, শিয়রের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে শমন, তখন মারীচ নিলেন তাঁর অন্তিম প্রতিশোধ। মায়ের, তাড়কার মৃত্যুর সেই শেষ প্রতিশোধ। যার সম্পর্কে এমনকী, রামও আর কিছু করতে পারবেন না।
মৃত মারীচকে শাস্তি দেওয়া যে রামেরও অসাধ্য!