নিউজপোল ডেস্ক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে নতুন করে ভূমিকার দরকার হয় না। তাঁর সম্বন্ধে আর কোনও তথ্যই সম্ভবত নতুন নয়। তবে একটা তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়ও জড়িয়ে আছে তাঁকে ঘিরে। খুব অবাক লাগলেও এটাই সত্যি, জাপানি মার্শাল আর্টকে তিনিই নিয়ে এসেছিলেন আমাদের দেশে। গল্পের শুরুটা কিন্ত অন্যভাবে। সুবিমল রায় তাঁর ভাইপো সত্যজিৎ রায়কে জুডোয় উৎসাহ দিতে শিঞ্জো তাকাগাকির কাছে নিয়ে গেছিলেন। এই শিঞ্জো তাকাগাকি হলেন এশিয়ান মার্শাল আর্টের গুরু। প্রশ্নটা থেকেই গেল যে এর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক কোথায়? ১৯২৯ সালে তাকাগাকিকে শান্তিনিকেতনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বিশ্বকবি। জিগোরো কানোর আবিষ্কৃত জুডোর প্রতি রবীন্দ্রনাথের আগ্রহ ছিল যথেষ্ট। এর অনেক আগে ১৯০৫ সালে জিন্নোসুকে সানো এনং জিউ জিৎসু জুডোর শিক্ষক ছিলেন শান্তিনিকেতনে। রবীন্দ্রনাথ বেশ কয়েকবার জাপান গেছিলেন। জাপানের জুডো শিল্প তাঁর খুব আকর্ষণীয় লেগেছিল আর সেই ভাললাগাই যে ভারতেও বয়ে আনবেন সেকথা কি ভেবেছিলেন কেউ? পরবর্তী সময়ে ভারত অলিম্পিক্স থেকে শুরু করে সমস্ত প্রতিযোগিতায় মার্শাল আর্টে অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু এদেশের মাটিতে মার্শাল আর্টের আগমন যে বিশ্বনাগরিক রবীন্দ্রনাথের হাত ধরেই হয়েছে সে কি ভোলা যায়? জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি গেলে যেসব পুরনো সামগ্রীর দেখা মেলে তাতে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে জুডোর প্রতি তাঁর ঠিক কতটা টান ছিল। তিনি আগ্রহীদের আমন্ত্রণ জানাতেন জুডো শেখার জন্যে।