নিউজপোল ডেস্ক:‌ ১৯৭০ সালে যে সংখ্যক পশু, পাখি, মাছ, পোকামাকড় ছিল, তার ৬০ শতাংশই এখন আর নেই। কারণ মানুষ। নয় মেরে ফেলেছে নয় গিলে নিয়েছে। বলছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (‌ডব্লু ডব্লু এফ)‌–এর একটি রিপোর্ট। এই পরিমাণ মানুষ মারা গেলে উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, চীন, ওশিয়ানিয়া ফাঁকা হয়ে যেত।

কাটা হয়েছে অ্যামাজনের চিরহরিৎ অরণ্য

দিন দিন দুনিয়ার জনসংখ্যা বাড়ছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের খাদ্যের যোগান দিতে বলি হচ্ছে প্রাণী আর উদ্ভিদ। সেই সংখ্যাটা ঠিক কত, জানতে ২০১৪ সাল থেকে একটি গবেষণা চালান দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ডব্লু ডব্লু এফ–এর ৫৯ জন বিজ্ঞানী। পরিসংখ্যান দেখে মাথায় হাত পড়ে যায় তাঁদের। ডব্লু ডব্লু এফ–এর বিজ্ঞান ও সংরক্ষণের প্রধান মাইক ব্যারেট জানালেন, ‘‌ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আমরা খাদের দিকে হাঁটছি’‌।

কমছে সবুজ

ইতিমধ্যে মোট স্তন্যপায়ীর ৮৩ শতাংশই ধ্বংস করেছে মানুষ। সভ্যতা শুরুর সময় যা গাছ ছিল, এখন তার অর্ধেক। মানুষের পেটে যেতে যেতে ৩০০ রকম প্রাণী দুনিয়া থেকে উধাও হয়ে গেছে। যে সংখ্যক প্রাণী আর উদ্ভিদ মারা হয়েছে, তা আবার জন্ম নিতে গেলে ৫০ থেকে ৭০ লক্ষ বছর সময় লাগবে। সামুদ্রিক প্রাণীদের হাল আরও খারাপ। জলে কলকারখানা থেকে রাসায়নিক, জাহাজের তেল মিশে রোজ হাজার হাজার প্রাণী মারা যাচ্ছে। চোরাশিকারের সমস্যা তো রয়েছেই। এসব কারণে ১৯৭০ সালে হাঙরের সংখ্যা যা ছিল, এখন তার অর্ধেক।
হাল আমলে সব থেকে বেশি বন ধ্বংস করছে মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকা। প্রতি ২ মাস অন্তর লন্ডনের যা আয়তন, ততটা সাভানা জঙ্গল কেটে সাফ করা হচ্ছে। কারণ সয় চাষ। দেশে বিদেশে শূকর আর মুরগীর খাদ্য হিসেবে সয়ের চাহিদা বাড়ছে। তার যোগান দিতে কাটা হচ্ছে এই জঙ্গল। সংরক্ষণের আওতায় এনে ভারতে বাঘ, চীনে জায়ান্ট পান্ডার সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এসবই ব্যতিক্রম।