প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

নিউজপোল ডেস্ক: করোনা আবহে স্বাধীনতা দিবসের দিনই লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বক্তৃতায় নারীস্বাস্থ্য এবং স্যানিটারি ন্যাপকিনের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তাঁর মুক্ত বার্তা দেশের মানুষের বাহবা কুড়িয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর জনৌষধি কেন্দ্র থেকে মাত্র ১ টাকাতেই মেলে নারীর স্যানিটারি ন্যাপকিন। ২০১৯ সাল থেকেই ‘সুবিধা’ ব্র্যান্ডের আওতায় কম দামে স্যানিটারি প্যাড পাচ্ছেন মহিলারা। 

দেশের সকল মহিলাদের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পকে আরো সামনের দিকে এবং বিস্তারিত করার জন্যে বছরে ১২ হাজার কোটি টাকার নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জানেন সমাজের ট্যাবু কী করে ভাঙতে হয়। নারীর ঋতুস্রাব নিয়ে এখনো দেশে যে ছুঁৎমার্গতা রয়েছে, তা অনাবশ্যক এবং ভিত্তিহীন। সেই ট্যাবুকে লালকেল্লা থেকেই ভেঙে ফেলেছেন মোদি। যথেষ্ট প্রশংসা-সম্মান পেয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। 

মোদি বলছেন, ভারতের মা-বোনদের স্বাস্থ্যের জন্য চিন্তিত কেন্দ্রীয় সরকার। মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত না থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকার। এই লক্ষ্যেই সরকারি উদ্যোগে ভারতের মোট ৬ হাজার জনৌষধি কেন্দ্র থেকে ১ টাকায় স্যানিটারি ন্যাপকিনের সুবিধা লাভ করেছেন ৫ কোটি মহিলা।

আগামি দিনে মা-বোনদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে আরও বড় পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে সিদ্ধান্ত ছিলই। এবার সে পথেই হাঁটছে কেন্দ্রীয় সরকার।

উল্লেখযোগ্য যে, নারী স্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্পে সুবিধা ব্র্যান্ড চালু হয়েছিল ২০১৮ সাল থেকে। তখন স্যানিটারি প্যাডের দাম ছিল আড়াই টাকা। ২০১৯ সাল থেকে সেই দাম কমিয়ে ১ টাকা করা হয়।এই প্রকল্পকে ভারতের প্রত্যেক কোণায় কোণায় ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে মোদি সরকার। সে জন্যই প্রতি বছর ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে সরকার।

সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষ বর্ধন, পরিবেশমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী মনসুখ মানদাভিয়া রয়েছেন। ১ টাকায় ভারতের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে দুঃস্থ মহিলাদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন পৌঁছে দেয়া হবে। 

উল্লেখযোগ্য যে, ঋতুস্রাব নিয়ে গ্রামাঞ্চলে অনেক বেশি সচেতনতার অভাব রয়েছে। ফলে তাঁদের মানসিক-শারীরিক সমস্যা প্রচণ্ডও বাড়ছে। গ্রামে স্যানিটারি প্যাডের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন না মহিলারা। ফলে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। 

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মা-বোনেদের ভরসা একটুকরো কাপড়। এই কাপড় ভেজা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় শুকানো হয়। এছাড়া সেগুলো বারবার ব্যবহার করার জন্যে বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধে শরীরে। এই বিষয়ে সচেতনতার প্রয়োজন আছে খুব। ঋতুস্রাবের সময় মেয়েদের স্বাস্থ্য এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতা প্রচারকার্য চালানোর জন্যে ইতিমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।