নিউজপোল ডেস্ক: দিন দুয়েক আগেই বিদ্যাসাগরের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সুতপা সেনগুপ্ত। একাধারে সুপরিচিত এবং শঙ্খ ঘোষের স্নেহধন্যা হিসেবে সুপরিচিত সুতপার এমন মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বাঙালি নেটাগরিকরা বিদ্যাসাগরের প্রতি এমন আক্রমণ মেনে নিতে পারেননি। রবিবার ফেসবুকে নিজেরই একটি পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে সুতপা সেনগুপ্ত লিখে বসেন, “আমার বাবা অনেক দিন আগে, তখন আমি ক্লাস এইট, জানিয়েছিলেন, কুমোরটুলির একটি পরিবারের কথা। তাঁরা বিদ্যাসাগর মশায়ের বংশধর। এক অসহায় মহিলাকে তিনি সহায়তা দিয়েছিলেন, পরে তার সঙ্গে বিদ্যাসাগরের একটি সম্পর্ক ঘটে যায় ও এক সন্তান হয়।” আর এই নিয়েই বাঁধে তুমুল হট্টগোল। ফেসবুকে শুরু হয় #বাবাবলেছে আন্দোলন।

সুতপা সেনগুপ্তর উদ্দেশ্যে অনেকেই লেখেন, “সম্প্রতি ফেসবুকে আপনার একটি মন্তব্য প’ড়ে যারপরনাই লজ্জিত হয়েছি। সেখানে আপনি স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয় সম্পর্কে লিখেছেন- ‘এক অসহায় মহিলাকে তিনি সহায়তা দিয়েছিলেন, পরে তার সঙ্গে বিদ্যাসাগরের একটি সম্পর্ক ঘটে যায় ও এক সন্তান হয়’। আপনি প্রাজ্ঞজন ও বাংলাভাষার বিশিষ্ট কবি। সেই সুত্র ধ’রে বলি, আধুনিক বাংলাভাষার বর্ণমালা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দান ; ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে এটাও প্রতিষ্ঠিত যে, পিছিয়ে পড়া ও অসহায় নারীর সামাজিক মানোন্নয়নের জন্য তিনি জীবনভর লড়াই করেছেন। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, যৌনতা একটি ব্যক্তিগত বিষয় এবং প্রেমজ যৌনতা বা সম্মতিসাপেক্ষে যৌনতা কখনই কোন প্রকার প্রশ্নচিহ্নের সামনে পড়ে না। কিন্তু বিদ্যাসাগর মহাশয় সম্পর্কিত আপনার মন্তব্যটির কোন ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে ব’লে মনে হয় না।”

অধ্যাপকের কাছে উপযুক্ত প্রমাণের দাবি জানায় ক্ষুব্ধরা। শুরু হয় #বাবাবলেছে আন্দোলন। কেউ লিখেছেন, “#বাবাবলেছে তাদের ছোটবেলায় কলকাতায় অ্যাঅ্যাঅ্যাতো বরফ পড়ত, বিটিরোডে কয়েক ফুট বরফ জমে যেত ডিসেম্বর-জানুয়ারীতে। (এটা অলরেডি অন্য কারো বাবা বলেনি তো? বিশ্বাস না হলে বিটিরোডকে জিজ্ঞেস করুন)।” আবার কেউ লিখেছেন, “#বাবাবলেছে বাড়ি থেকে পালানোর আগে নেতাজি আমাদের আম বাগানে গুলতি দিয়ে আম পাড়া প্রাক্টিস করতেন।” সব মিলিয়ে ফেসবুক এখন #বাবাবলেছে আন্দোলনে জেরবার।