নিউজপোল ডেস্ক: নিজের সন্তানকে হত্যা করার কথা কোনও মা’র দূরতম কল্পনাতেও আসতে পারে না। কিন্তু এই মা এক নয়, নিজের তিনটি পুত্রসন্তানকেই খুন করেছেন। খুনের কথা পুলিশের কাছে স্বীকারও করে নিয়েছেন তিনি। আমেরিকার ওহিও প্রদেশের ব্রিট্যানি রেনি পিলকিংটনকে এই অপরাধে ৩৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতে ব্রিট্যানি জানিয়েছেন, তাঁর ছেলেরা বড় হয়ে যাতে কারও ধর্ষণ করতে না পারে সে জন্যই হত্যা করেছেন তিনি।

২০১৫ সালে ব্রিট্যানির তিন মাসের শিশুপুত্রকে তাঁর স্বামীর ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সে বছরেই চার বছরের সন্তান গ্যাভিনেরও অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। তাঁর আগের বছর মারা যায় আর এক শিশুপুত্র নিয়েল। প্রশাসনের সামনে এই তিনটে খুন তিনিই করেছেন বলে কবুল করেন ব্রিট্যানি। পুলিশের কাছে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর আশঙ্কা হয়েছিল যে এই তিন ছেলে বড় হয়ে মহিলাদের ধর্ষণ করতে পারে। এ কারণে তিনজনকেই মেরে ফেলেছেন। অবাক হওয়ার পালা এখানেই শেষ নয়। জানা গেছে, ব্রিট্যানি নিজেও ধর্ষণের শিকার। তাঁর বর্তমান স্বামী জোসেফ পিলকিংটন এক সময় তাঁর পালক পিতা ছিলেন। ব্রিট্যানির মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তাঁর। এই জোসেফই নাবালিকা থাকাকালীন তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, নিজের থেকে ২০ বছরের ছোট ব্রিট্যানিকেই বিয়ে করেছিলেন জোসেফ। ২০০৯ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রথমবার গর্ভবতী হয়ে পড়েন ব্রিট্যানি। ওহিও প্রদেশের লোগান কাউন্টি প্রসিকিউটরের মতানুযায়ী, জোসেফ ব্রিট্যানির থেকে বেশি খেয়াল রাখতেন তিন সন্তানের প্রতি। তা সহ্য না হওয়ায় খুন। একবার বিষ খেয়ে ফেলায় মানসিক রোগগ্রস্ত হয়ে পড়েন ব্রিট্যানি। গারদই তাঁর জন্য সঠিক জায়গা বলে মত পোষণ করেছেন অধিকাংশ।