বুলেট ট্রেন

নিউজপোল ডেস্ক: পূর্ব ঘোষণা মতো ২০২৩ সালের মধ্যে মুম্বই-অহমদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। করোনা সংকটের জেরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বুলেট ট্রেন চালু হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু, এখনও যা পরিস্থিতি তাতে এই ডেডলাইনের মধ্যে কাজ শেষ করা চাপের। তার কারণ, করোনার ঠেলায় জমি অধিগ্রহণের কাজ এখনও শেষ করা যায়নি। দরপত্র খোলা নিয়েও একই অবস্থা। যে কারণে প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হতে পারে। সরকারি সূত্রে খবর, ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন (NHSRCL) এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ৬৩ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করতে পেরেছে। এই জমির ৭৭ ভাগই গুজরাতের। ৮০ শতাংশ দাদার নগর হাভেলির। এ ছাড়া মহারাষ্ট্রের ২২ শতাংশ। এই প্রকল্পে যুক্ত আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, মহারাষ্ট্রের পালঘর ও গুজরাতের নবসারির জমি এখনও অধিগ্রহণ করা যায়নি।

সূত্রের খবর, গত বছর, ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন ন’টি সিভিল ওয়ার্কের দরপত্র নিয়েছিল। কিন্তু, করোনভাইরাস মহামারীর কারণে ওই দরপত্র খোলা যায়নি। NHSRCL-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অচল খরে বলেন, ‘এই প্রকল্পের উপর করোনা মহামারীর কতটা প্রভাব পড়বে, কাজ শেষ করতে কত বেশি সময় লাগবে, আমি জানি না।’ তিনি জানিয়েছেন, কোভিড পরিস্থিতির কারণে দরপত্র খোলা স্থগিত রাখতে হয়েছে। এই প্রকল্পের উপর করোনার প্রভাব নির্ধারণ করা এই মুহূর্তে আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, নানা প্রতিকূলতা তৈরি হওয়া সত্ত্বেও আমরা ২০২৩-এর ডেডলাইন মাথায় রেখেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

মুম্বই-অহমদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের মোট দূরত্ব বা দৈর্ঘ্য ৫০৮.১৭ কিলোমিটার। মহারাষ্ট্র তিন জেলা (মুম্বই, থানে ও পালঘর), গুজরাতের আট জেলা (ভলসাড, নবসারি, সুরত, ভরুচ, ভাদোদরা, আনন্দ, খেড়া ও অহমদাবাদ)-র উপর দিয়ে যাবে। জমি অধিগ্রহণ ছাড়াও এই প্রকল্পের কাজে দেরি হওয়ার মস্ত কারণ হতে চলেছে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ভারতীয় টাকার দাম পড়ে যাওয়া। যে কারণে প্রকল্পের খরচ হঠাত্‍‌ বেড়ে গিয়েছে। এই বুলেট ট্রেন প্রকল্পের মোট খরচ ধরা হয়েছে ১.০৮ লক্ষ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্র সরকার NHSRCL-কে দেবে ১০ হাজার কোটি টাকা। দুই রাজ্য গুজরাত ও মহারাষ্ট্র দেবে ৫ হাজার কোটি টাকা করে। বাকি টাকা জাপান ধার দেবে ০.১ শতাংশ সুদে।

এদিকে দেশে বুলেট ট্রেন চলাচলের রুট সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। হাই স্পিড বুলেট ট্রেন চালানোর জন্য আপাতত সাতটি রুট নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছে ভারতীয় রেল। এই সাতটি রুটে জমি অধিগ্রহণের কাজও শিগগির শুরু হবে বলে জানা যাচ্ছে। ভারতীয় রেল এবং ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া একসঙ্গে জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে কাজ শুরু করবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরির তত্ত্বাবধানে হওয়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। তাঁরাই জমি অধিগ্রহণের যাবতীয় কাজকর্মের তদারকি করবেন বলে জানা যাচ্ছে। হাই স্পিড করিডর-এ বুলেট ট্রেন ৩০০ কিমি প্রতি ঘণ্টার গতিতে ছুটতে পারে। সেমি হাই স্পিড করিডরে ট্রেনের গতি হতে পারে ১৬০ কিমি প্রতি ঘণ্টা। ভারতীয় রেল এক চিঠিতে সাতটি হাই স্পিড করিডরের বিবরণ দিয়েছে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া-কে। প্রোজেক্ট রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। কাজ যাতে তাড়াতাড়ি শুরু করা যায় সেই জন্য ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া-কে একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করতে বলা হয়েছে। অহমদাবাদ-মুম্বই রুট ছাড়া বুলেট ট্রেনের বাকি ছ’টি রুট: দিল্লি-বেনারস (ভায়া নয়ডা, আগরা, লখনউ)। বেনারস-হাওড়া (ভায়া পাটনা)। দিল্লি-অমৃতসর (ভায়া চণ্ডীগড়, লুধিয়ানা, জলন্ধর)। মুম্বই-নাগপুর (ভায়া নাসিক)। মু্ম্বই-হায়দরাবাদ (ভায়া পুণে)। চেন্নাই-মাইসোর (ভায়া বেঙ্গালুরু)