নিউজপোল ডেস্ক: কক্সবাজারের মহেশখালীতে তিন বছর আগের এনকাউন্টারে এক মৃত্যুর ঘটনায় টেকনাফের প্রাক্তন ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে দায়ের খুনের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

মহেশখালী আমলী আদালতের বিচারক মহম্মদ আব্বাস উদ্দিন বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় এই নির্দেশ দিয়েছেন। তিন বছর আগে এনকাউন্টারে মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের পূর্ব মাঝের পাড়ার আব্দুস সাত্তারকে খুন করা হয় বলে মৃতের স্ত্রী হামিদা আক্তার বুধবার আদালতে অভিযোগ করেন। ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পাঁচ পুলিশ কর্মী সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।

আইনজীবী হামিদুল বলেন, আদালত অভিযোগটি খারিজ করে দিলেও এই অপরাধে জড়িত অজ্ঞাত পরিচয়ের অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের মামলাটি সিআইডির এএসপি পদমর্যাদার একজন আধিকারিককে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৃতের স্ত্রী হামিদা অভিযোগে বলেন, ‘২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টার দিকে হোয়ানক ইউনিয়নের লম্বাশিয়া পাহাড়ি এলাকায় দুই জলদস্যূর মধ্যে গুলির লড়াইতে আব্দুস সাত্তারকে হত্যা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে পুলিশকে সাহায্য করে ফেরদৌস বাহিনী নামের একটি ‘জলদস্যূ বাহিনী। এ ঘটনায় ওই সময় থানায় পুলিশ মামলা নেয়নি।’ মৃত ব্যক্তির স্ত্রী হামিদার আইনজীবী হামিদুল হক বলেন, ঘটনার পর থানায় মামলা না নেওয়ার কারণে ওই বছরের জুলাই মাসে মৃতের স্ত্রী উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন। এ নিয়ে পিটিশনটি ‘ট্রিট ফর এফ আই আর’ হিসেবে নির্দেশ দেয় আদালত।

আদালতের এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে মৃতের স্ত্রী হামিদা আক্তার ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই খুনের মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করতে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে লিখিত দরখাস্ত করেন। কিন্তু পুলিশ আবেদনটি আমলে নেয়নি। পরে উচ্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপিল করে এবং তা খারিজ হয়ে যায়। এর ফলে মৃতের স্ত্রী নতুন আরেকটি রিট পিটিশন দেওয়ার জন্যও আদালত নির্দেশ দেয়। একই ঘটনায় নতুন করে আরেকটি অভিযোগ দায়ের করলে বিচারক বৃহস্পতিবার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী হামিদুল হক। যেহেতু ঘটনাটি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশনটি এখনও বিচারধীন রয়েছে, তাই বিচারক নতুন করে দায়ের অভিযোগটি খারিজ করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সম্প্রতি কক্সবাজারের টেকনাফ থানার দায়িত্বে থাকার সময় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্তা সিনহা মোহাম্মদ খান খুনের অপরাধে গ্রেফতার হয়েছেন।