নিউজপোল ডেস্ক: বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় যখন উত্তাল মুসলিম অধ্যাপকের সংস্কৃত পড়ানো নিয়ে, ঠিক তখনই বাংলায় ঘটল নজিরবিহীন ঘটনা। রমজান খান এবং গণেশ টুডু সংস্কৃতের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করলেন রামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দিরে। এই প্রথম বাংলা কোনও অহিন্দু ব্যক্তি কোনও স্বয়ংশাসিত কলেজে এই পদে বহাল হলেন।

গত ৬ নভেম্বর থেকে বিএইভইউ-র সহ উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, ‘সংস্কৃত বিদ্যা ধরম বিদ্যম’ (এসভিডিভি) বিভাগে পড়তে অথবা পড়াতে পারেন না কোনও অহিন্দু ব্যক্তি। ঠিক সেই সময়েই শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতে জাতি-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মুসলিম এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের দুই শিক্ষককে সংস্কৃতের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ করা হল বাংলায়। ভারতের মানব উন্নয়ন মন্ত্রক ২০১৮ সালে রামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দিরকে দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করে। সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে না হলেও, এর আগেও এই ধরনের নিয়োগ হয়েছে বিদ্যামন্দিরে। ২০০০ সালে বিদ্যামন্দিরে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন শামিম আহমেদ। মহাভারত নিয়ে গবেষণা করা এই অধ্যাপক এই মুহূর্তে দর্শন বিভাগের প্রধান। গত দুই দশক ধরে তিনি দর্শন পড়াচ্ছেন রামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দিরে।

শামিম আহমেদের সঙ্গে ফরিদুল রহমানকেও নিয়োগ করা হয়েছিল এই বিভাগেই। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলেন শেখ সাবির আলি। বর্তমানে তিনি বারাসাতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতের অধ্যাপক। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে কোনও কথা বলতে গেলেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রীরামকৃষ্ণ এবং স্বামী বিবেকানন্দের সার্বজনীন ধর্মের কথা বলেন। রামকৃষ্ণ মঠ এবং মিশনের সাধারণ সচিব স্বামী সুবিরানন্দ জানান, ‘আমাদের সংগঠন বহুত্ববাদী এবং অন্তর্ভুক্তিতে বিশ্বাসী। শ্রীরামকৃষ্ণ সমস্ত ক্ষেত্রেই সম্প্রীতির শিক্ষাই দিয়েছেন।’ রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ শিক্ষা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহ উপাচার্য স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ বলেন, ‘আমরা সহিষ্ণুতা এবং গ্রহণযোগ্যতায় বিশ্বাস করি। স্বামীজি সার্বজনীন ধর্মের কথা বলতেন। আমরা জীবনে সেটাই অনুসরণ করি।’