নিউজপোল ডেস্ক: দিনমজুরের মেয়ে হয়েও নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পায়ে নিয়েছিলেন ফুটবল। সেই স্পর্ধা ভালভাবে নেয়নি জীবন। খিদের কাছে হার মানল ফুটবলের প্যাশন। সংসার চালাতে শেষ পর্যন্ত পানের দোকান খুলতে হল রশ্মিতা পাত্রকে। ২৩ বছরের এই তরুণীর পায়ের জাদুতে একসময় জুনিয়র এবং সিনিয়র দুই স্তরেই সম্মান এসেছিল রাজ্য ওড়িশার ঘরে। আজ সবটাই অতীত। পায়ের ড্রিবলিং ভুলে রশ্মিতা বিক্রি করছেন পান পাতা। তিনজনের সংসারে একমাত্র আয়ের উৎস তিনিই। তাই পান থেকে চুন খসলেই মুশকিল। ভুবনেশ্বর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে আউল গ্রামে ছোট্ট পানের দোকানই এখন ভরসা রশ্মিতার।

১২ বছর বয়সে প্রথম ফুটবল খেলেন রশ্মিতা। নজরে পড়ে যান প্রশিক্ষক চিত্তরঞ্জন পাত্র এবং প্রমোদ পাত্রের। জুনিয়র এবং সিনিয়র‚ দুই স্তরেই রাজ্য‚ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন রশ্মিতা। মাথায় করে রাখল সারা দেশ। কিন্তু অর্থাভাবে চালিয়ে যেতে পারলেন না খেলা। ২০০৯-এ ছাড়তে হল স্পোর্টস হস্টেল। ফুটবলের জন্য পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি তিনি। তাই ডিগ্রির বাজারে চাকরি জোটানো যে কত কঠিন‚ ততদিনে হাড়ে হাড়ে বুঝতে পেয়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার।

অন্যদিকে রশ্মিতার স্বামীর নেই কোনও বাঁধাধরা আয়। ফলে রশ্মিতার ছোট্ট দোকানের দিকেই তাকিয়ে থাকে গোটা সংসার। রাজনীতির বিভিন্ন স্তর থেকে সাহায্যের আশ্বাস এলেও, কোনও সাহায্যই পায়নি তিনি। রাজ্য সরকারের থেকেও কোনও সাহায্য পায়নি রশ্মিতা। তবে ওড়িশার ক্রীড়া ও যুবসেবা মন্ত্রী সুদাম মারান্দি বলেছেন যে তাঁরা রশ্মিতার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন।

মন্ত্রী সুদাম মারান্দি বলেছেন, ‘রাজ্য সরকার বিভিন্ন সময়ে ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের নগদ পুরস্কার সহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘোষণা করে। রশ্মিতা পাত্রকেও সাহায্য করার চেষ্টা করছি আমরা। তাঁর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁকে আবার খেলার জগতে ফিরিয়ে আনার জন্য দরকারি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করব।’