নিউজপোল ডেস্ক: বিহারের হয়ে জাতীয় স্তরের সাঁতারুর গোপাল প্রসাদ যাদব স্বপ্ন ছিল একদিন দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় প্রতিনিধিত্ব করবেন। সন্তানদের সাঁতারে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র তাঁর স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে দেয়নি। রাজ্য সরকারের কাছে চাকরির জন্য একাধিকবার দরবার করেও কোনও লাভ নেই। আজ সংসার চালাতে চায়ের দোকান দিতে হয়েছে গোপালকে।

জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অসংখ্য পদক জিতেছেন গোপাল। তাতেও মেলেনি কোনও সরকারি সাহায্য। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে নিজের দুই ছেলে সনি এবং সোনু কুমারকেও সাঁতারকে ভবিষ্যৎ ভাবা থেকে বিরত করেছেন। পেট চালাতে বক্সার জেলার কাজিপুরের নয়াতোলা এলাকায় চায়ের দোকান দিয়েছেন গোপাল। নাম রেখেছেন ‘ন্যাশনাল সুইমার টি স্টল’। এমন নাম রাখার কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, এটা দেখে যাতে উঠতি সাঁতারুরা শিক্ষা পায়।

১৯৮৭ সালে কলকাতায় প্রথমবার জাতীয় স্তরের সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন গোপাল। এরপর ১৯৮৮, ৮৯-এ অন্যান্য প্রতিযোগিতায় দক্ষতার ছাপ রাখেন। ৮৮তে ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক সাঁতারে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৯০ সালে ভারতীয় ডাকবিভাগে চাকরির জন্য সাক্ষাৎকার দিলেও অকৃতকার্য হন। চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি গঙ্গা নদীতে সাঁতারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন গোপাল যাদব। উঠতি সাঁতারুদের জন্য তাঁর পরামর্শ, আগে চাকরির ব্যবস্থা করো, তারপর সাঁতার নিয়ে স্বপ্ন দেখবে। না হলে পরে তাঁর মতো অবস্থা হতে পারে।