কৈলাস সংলগ্ন ধর্মীয় স্থানগুলিতে SA মিসাইল স্থাপন করছে চিন

নিউজপোল ডেস্ক: কোনও গোয়েন্দা রিপোর্ট নয়, উপগ্রহ চিত্রেই ধরা পড়েছে মানস সরোবরে যাওয়ার পথ ধরে চিনের সামরিক প্রস্তুতি। রণক্ষেত্রে পরিণত তীর্থক্ষেত্র। কৈলাস পর্বতকে কেন্দ্র করে ধর্মীয়স্থানগুলিতে শুধু চিনের রেড আর্মির মোতায়েনই নয়, সারফেস টু এয়ার মিসাইল (SAM) বা ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র বসানোর কাজও শুরু করে দিয়েছে জিংপিং-এর দেশ। স্যাটেলাইট ইমেজে কিছু নির্মাণকাজও ধরা পড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। অগস্ট শেষের সর্বশেষ উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সেই নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।

১৬ অগস্টের উপগ্রহ চিত্রে স্পষ্ট ধরা পড়ে ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র। সেইসঙ্গে সম্ভাব্য HQ-9 SAM সিস্টেম নজরে আসে। সেগুলি তারপলিন কভারে ঢাকা। সামনে আসে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার লঞ্চারও। চারটে পৃথক প্ল্যাটফর্মে রাখা লঞ্চারগুলি। তিনটে রাডার রাখার জন্য আলাদা জায়গাও তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি গাড়ি-কেন্দ্রিক একাধিক রাডারও সেখানে রাখা রয়েছে। এতে বোঝা যায় আকাশপথে হামলা এড়াতে লালফৌজ কতখানি রাডারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

স্যাটেলাইট ইমেজে কিছু নির্মাণকাজও ধরা পড়েছে।

লাদাখে ভারত-চিন সংঘাতের পর থেকেই কৈলাস মানস সরোবরের পথে ধর্মীয়স্থানগুলিতে লাল ফৌজে ভরিয়ে দিয়েছে বেজিং। দু-দেশের উত্তেজনার পারদ চড়েছে লিপুলেখ পর্যন্ত ভারত রাস্তা নির্মাণ করায়। এই লিপুলেখ ভারত-চিন-নেপালের সংযোগস্থল। তিন দেশেরই সীমান্ত রয়েছে৷ ভৌগোলিক অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ। তীর্থযাত্রীদের কথা ভেবে কৈলাসে যাওয়ার দূরত্ব কমিয়ে আনতে ভারত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি তৈরি করে। তার পর থেকেই নেপালের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্রম অবনতি হয়। তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নয়াদিল্লি বিরোধীদের সঙ্গে হাতমিলিয়ে ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন অলি। ভারত যদিও সেই দাবি নস্যাত্‍‌ করে।

তীর্থযাত্রীদের কথা ভেবে কৈলাসে যাওয়ার দূরত্ব কমিয়ে আনতে ভারত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি তৈরি করে ভারত।

এ বার সেই লিপুলেখেও ধীরে ধীরে নিজেদের বাহিনীর সংখ্যা বাড়াচ্ছে চিন। ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স Detresfa উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ করে দাবি করেছে, লিপুলেখের ট্রাই জংশন এলাকায় সেনা মোতায়েন করার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র বসানোর জন্য নির্মাণকাজ শুরু করেছে চিন৷ শুধু বাহিনী মোতায়েন নয়, চিন লিপুলেখে মিসাইল বসানোর প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে বলে বেশ কয়েকটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও দাবি করা হয়৷ চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকেই এখানে পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করে দিয়েছিল চিন৷ গত কয়েক সপ্তাহে ধীরে ধীরে সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে চিন৷ ইতিমধ্যে সেখানে এক ব্যাটেলিয়ন বা ১ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে চিন৷