প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই মর্মেই চিঠি পাঠিয়েছেন দেশ ও বিদেশের নানা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড়শোরও বেশি শিক্ষাবিদ।

নিউজপোল ডেস্ক: করোনা আবহে NEET ও JEE পিছিয়ে দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বিভিন্ন মহল। বিভিন্ন ছাত্রছাত্রীর পাশাপাশি এই নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরাও। এরই মধ্যে সর্বভারতীয় ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রবেশিকা ‘ নিট’ এবং ‘জেইই’ (মেন) যদি আরও দেরিতে হয়, তাহলে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে আপোষ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এই মর্মেই চিঠি পাঠিয়েছেন দেশ ও বিদেশের নানা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড়শোরও বেশি শিক্ষাবিদ। অন্যদিকে বুধবারই বিরোধী দলগুলির ভার্চুয়াল বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পরীক্ষা আয়োজনের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন সাত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

এই পরিস্থিতিতেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে পরীক্ষা না-পিছোনোর দাবিতে সরব হলেন শিক্ষাবিদেরা। নিট ও জেইই-পিছোনোর দাবি প্রসঙ্গে চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, ‘সরকার জেইই মেইন ও নিটের তারিখ ঘোষণা করেছে…পরীক্ষাগুলি আরও দেরি হলে, ছাত্রছাত্রীদের মহা মূল্যবাণ বছর নষ্ট হয়ে যাবে। যদিও কয়েকজন নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ও সরকারের বিরোধিতা করার জন্য ছাত্রদের ভবিষ্যত্‍‌ নিয়ে খেলা করছে।’ চিঠিতে যে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদরা স্বাক্ষর করেছেন সে গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, ইগনু, লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়, জেএনইউ, BHU, আইআইটি দিল্লি ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, হিব্রু ইউনিভার্সিটি অফ জেরুজালেম, ইজরায়েলের বেন গুরিয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় শিক্ষাবিদরা। চিঠিতে সরকারের প্রতি আস্থা রেখে তাঁরা লিখেছেন, ‘ছাত্রদের সুরক্ষার কথা ভেবে সরকার সবরকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে সফলভাবে নিট ও জেইই-র আয়োজন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

তাঁদের অভিযোগ, ‘নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত্‍‌ নিয়ে খেলছেন কয়েকজন।’ চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ছাত্র ও যুবরা দেশের ভবিষ্যত্‍‌ কিন্তু Covid-19 অতিমারীর কারণে তাঁদের কেরিয়ারের উপর অনিশ্চয়তার কালো মেঘ ছেয়ে গিয়েছে। ভর্তি ও ক্লাস নিয়ে প্রচুর সমস্যা রয়েছে, যত শীঘ্র সম্ভব সে গুলির সমাধান করা প্রয়োজন।’ শিক্ষাবিদদের মতে, প্রতি বছরের মতো এ বছরও লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করেছেন। তাঁরা এখন বাড়িতে বসে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করছেন।