রবিবার চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচ চলাকালীন লাইন জাজকে লক্ষ্য করে বল ছোড়ায় বহিষ্কার করা হয় তাঁকে।

নিউজপোল ডেস্ক: বিশ্বের এক নম্বর টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচ অপ্রত্যাশিতভাবে ইউএস ওপেন থেকে ছিটকে গেলেন। রবিবার চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচ চলাকালীন লাইন জাজকে লক্ষ্য করে বল ছোড়ায় বহিষ্কার করা হয় তাঁকে। ১৯৯৫ সালে একই ধরনের ঘটনায় বহিষ্কার করা হয়েছিল টিম হেনম্যানকে। তাঁর মতে, এ দিনের সিদ্ধান্তও একেবাকে সঠিক। তাঁর কথায়, ‘তিনি লাইন জাজকে লক্ষ্য করে মারেননি, তবে তাঁকে বল দিয়ে আঘাত করেছেন। আর তাঁর এই কাজের জন্য তাঁকে দায়িত্ব নিতেই হবে।’

স্পেনের পাবলো ক্যারেনো বাস্তার সঙ্গে ম্যাচের সময় তিনটি সেট পয়েন্ট পেয়েও প্রথম সেটটি হাতের মুঠোয় করতে না-পেরে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। ০-৪০ পয়েন্টে থেকেও সেট বের করতে না-পারায় প্রথম সেটে ৫-৬-এ পিছিয়ে পড়তে হয় তাঁকে। তখনই হতাশা ও বিরক্তির কারণে তিনি কোর্টের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলা লাইন জাজের দিকে সজোরে একটি বল ছুড়ে মারেন। বলটি ওই মহিলার গলায় গিয়ে লাগে। যন্ত্রণায় মাটিতে পড়ে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ঘাবড়ে গিয়ে তাঁর দিকে ছুটে যান জোকার। ক্ষমা চেয়ে নেন তাঁর কাছে।

এই ঘটনার পর আর্থার অ্য়াশে স্টেডিয়ামে ঢুকে চেয়ার আম্পায়ার অরেলি টোরটে ও গ্র্যান্ড স্ল্যাম সুপারভাইজার আন্দ্রে এগলির সঙ্গে কথা বলেন টুর্নামেন্ট রেফারি সোয়েরেন ফ্রিমেল। দীর্ঘ আলোচনার পর ৩৩ বছরের তিন বারের মার্কিন ওপেনজয়ী জোকারকে ডিসকোয়ালিফাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লাইন জাজকে আঘাত করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তিনি ক্ষমাও চেয়ে নেন লাইন জাজের কাছে। তবে টুর্নামেন্টের নিয়ম মেনে তাঁকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গ্র্যান্ড স্ল্যামের নিয়ম বলছে, ‘খেলোয়াড়রার কোনও অবস্থাতেই কোনও আধিকারিক, বিপক্ষ, দর্শক বা অন্য কোনও ব্যক্তিকে টুর্নামেন্ট চলাকালীন শারীরিকভাবে আঘাত করতে পারেন না।’

জোকারকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই তাজ্জব হয়ে তাকিয়ে ছিলেন তাঁর বিপক্ষ ক্যারেনো বাস্তা। তাঁর দিকে হাত নেড়ে কোর্ট থেকে বেরিয়ে যান জকোভিচ। পরে ইনস্টাগ্রামে তিনি ক্ষমা চেয়ে লেখেন, ‘গোটা ঘটনা আমাকে খুবই দুঃখিত ও ফাঁকা করে দিয়েছে। তাঁকে বেদনা দেওয়ার জন্য আমি খুবই দুঃখিত। তবে অনিচ্ছাকৃত ছিল। খুব ভুল হয়েছে। মানুষ ও খেলোয়াড় হিসেবে এই ঘটনা আমার অগ্রগতির পথে সবক হয়ে থাকল। আমার ব্যবহারের জন্য ইউএস ওপেন টুর্নামেন্ট ও তাঁর সঙ্গে জড়িত সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’