ভারতীয় পর্বতারোহণের মানচিত্রে গত এক মাসে উল্কার গতিতে উত্থান বলজিৎ কৌরের (Baljit Kaur)। মাত্র ৩০ দিনে এভারেস্ট-সহ নেপালের পাঁচটি আটহাজারি শৃঙ্গ ছুঁয়ে প্রথম ভারতীয় হিসাবে রেকর্ড গড়েছেন। প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসাবে সবচেয়ে বেশি আটহাজারি শৃঙ্গজয়ের (মোট ৬টি) কৃতিত্বও তাঁর পকেটে।

হিমাচলের সোলান জেলার ছোট্ট পঞ্জোরা গ্রামের মেয়ে, বছর সাতাশের বলজিৎ কৌর (Baljit Kaur) অবশ্য বলছেন, ‘‘পাহাড়কে বুঝতে আর ভালবাসতে চেয়েই পরপর শৃঙ্গ চড়েছি, নিজের ক্ষমতা যাচাই করতে চেয়েছি। রেকর্ডের কথা মাথায় ছিল না।’’হিমাচলের ছোট্ট গ্রাম থেকে এক মাসে পঞ্চশৃঙ্গে অসাধ্য সাধন — এই পথটাও মোটেই মসৃণ ছিল না। বলজিৎকে সোলানের সরকারি কলেজে ভর্তি করাতে মঙ্গলসূত্র বেচেছিলেন তার মা। পেশায় বাসচালক বাবা সে কথা আজও জানেন না।২০১৬ সালে যান প্রথম এভারেস্ট অভিযানে। সেখানে অক্সিজেন মাস্ক খারাপ হয়ে যাওয়ায় কাঁদতে কাঁদতে ফিরতে হয় তাঁকে। বলছেন, ‘‘তখন খুব রাগ হয়েছিল। এখন মনে হয়, ভালই হয়েছিল। জীবনে ব্যর্থতারও প্রয়োজন আছে, তাতে ভিতরের শক্তি কতটা তা চেনা যায়।’’

পর্বতারোহী নির্মল পূরজার মতো একই মরসুমে একাধিক শৃঙ্গে অভিযান এখনও ভারতীয় পর্বতারোহী মহলে সে ভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। তাই হিমাচলের একটি উঠতি মেয়ে একসঙ্গে তিন-তিনটে শৃঙ্গ (অন্নপূর্ণা, এভারেস্ট-লোৎসে) অভিযান করবেন— তা অনেকেই ভাবতে পারেননি। তাই অভিযানের জন্য তেমন স্পনসরও জোটেনি। পরে বলজিতের তালিকায় ক্রমশ জুড়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা-মাকালুর নাম, সাফল্য দেখে এগিয়ে এসেছে স্পনসরেরা। তবে পিয়ালির মতো বলজিতেরও চিন্তা এই অভিযানের বিপুল খরচ। বলছেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত মাত্র দু’টি শৃঙ্গ অভিযানের টাকা জমা করতে পেরেছি, বাকি ৪০ লক্ষ টাকা। তার জন্য স্পনসর আর সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় আছি। না-হলে পিয়ালির মতোই ক্রাউড ফান্ডিং করতে হবে।’’

তবে শুধু রেকর্ড নয়, সঙ্গে করে বহু অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়ে নেপাল থেকে ফিরছেন বলজিৎ। অন্নপূর্ণা সামিট করে ফেরার পথে তুষারঝড়ে পথ হারিয়েছিলেন, সঙ্গীকে বাঁচাতে নিজের অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিয়েছিলেন। কাঞ্চনজঙ্ঘায় দেখে ফেলেছিলেন পুণের মৃত পর্বতারোহী নারায়ণ আইয়ারের দেহ নীচে নামানোর দৃশ্য যা বদলে দিয়েছে তাঁর জীবন-দর্শন।

আরও পড়ুন:French open: ফরাসি ওপেনে চ্যাম্পিয়ন ছত্রিশের নাদাল