নিউজপোল ডেস্ক: চীন পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে টানাটানি চলছে। সম্প্রতি চীন থেকে যেসব নাগরিকরা পাকিস্তানের গিয়েছিল এই করিডোর বিষয়ে কাজের জন্য তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তাএই এবং এই ইকোনমিক করিডোরের কাজের মহ্নর গতি নিয়ে চীন নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। শুধু তাইই নয়, ইতিমধ্যে CPEC কাজে চীনের নাগরিকদের নিরাপত্তার কাজে মোতায়েন চীনের সেনাদের সঙ্গে পাক সেনাদের সংঘাতের খবরও প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু এই দুই বিষয় নিয়ে পাকিস্তান এখন চুপ করে রয়েছে।

সূত্র মারফৎ খবর পাওয়া গিয়েছে , পাকিস্তানের এই নীরবতা পিছনে রয়েছে পাকিস্তানের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিক, এদের মধ্যে পাক সেনাবাহিনীর আধিকারিকও রয়েছেন। পাকিস্তানের অভ্যন্তরে অভিযোগ উঠে এসেছে, চীন পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর ঘিরে যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, তাতে আধিকারিকেরা বড়সড় দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছেন। এই কারণেই ওই পাক আধিকারিকেরা কাজের গতিকে মহ্নর করে রাখতে চাইছে। চীনের সেনাদের হাতে পাক সেনাদের মার খাওয়া নিয়েও চুপ পাক সামরিক বাহিনী।

চীনের লোকেদের নিরাপত্তার জন্য গঠিত স্পেশাল সিকিউরিটি ডিভিশন (SSD) কমান্ডিং আধিকারিক লেফটেনেন্ট কর্নেল ইমরান কাশিম চীন সেনাদের হাতে পাকিস্তান সেনাদের প্রহৃত হওয়ার ঘটনা নিয়ে চুপ করে থাকায় পাক সেনাবাহিনীর মনোবলে চিড় ধরেছে। অভিযোগ উঠেছে SSD লেফটেনেন্ট কর্নেল ইমরান কাশিম চীনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এমনকি পাক সেনারা যাতে পাল্টা লাল ফৌজকে আক্রমণ না করে সেই সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করা হয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তরফে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, CPEC নিয়ে পাকিস্তানে কর্মরত চীনের কনট্রাকটর এবং মজদুরদের নিরাপত্তা নিয়ে চীন অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এমনকি ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন এই ইস্যুতে পাক সামরিক বাহিনীর উচ্চ পদস্থ আধিকারিক পর্যায়ে নিজের অসন্তোষ কড়া ভাষায় প্রকাশ করেছে।

কারোট হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্ট, আজাদ পট্টন প্রজেক্ট (পাঞ্জাব) নিয়ে চীন নিজের চিন্তা প্রকাশ করেছে। এই দুই কাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করতে গিয়ে চীন ঢিলেঢালা নিরাপত্তা এবং কাজের মহ্নর গতি নিয়ে মুখ খুলেছে। এর আগেও চীন এই দুই প্রজেক্ট নিয়ে পাকিস্তানের সমালোচনা করেছে। ২০১৯ সালে এই প্রজেক্টের নকশা নিয়ে বিতর্ক দাঁনা বেঁধেছিল। চীন ইতিমধ্যেই সুখরী কিনারি হাইড্রো পাওয়ার প্রজেক্টে নিরাপত্তা বাড়ানোর ওপর পাক সেনাবাহিনীর ওপর চাপ দিয়েছে, যদিও পাকিস্তান নিরাপত্তা কর্মী বাড়ানোর বিষয়ে এখনও কোনোও পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে মট্টারি -লাহোর রোড প্রজেক্ট, পেশোয়ার – করাচী রোড প্রজেক্টে নিরাপত্তার কড়াকড়ি নিয়ে চীন পাক সামরিক বাহিনীর কাছে অসন্তোষ জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে চীনের লাল ফৌজের হাতে প্রহৃত হয়ে পাক সেনাবাহিনীর মধ্যেও তীব্র অসন্তোষ জমে রয়েছে। পাক ভূখন্ডে পা রেখে লাল ফৌজের মাস্তানি মেনে নিতে পারছে না খান সেনারা। অথচ এই ইস্যুতে পাক সেনা আধিকারিকেরা সেনাবাহিনীর নীচু স্তরের সেনাদের হাত পা বেঁধে রেখে দিয়েছে। ফলে চীন পাকিস্তান সম্পর্ক এখন বারুদের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।