এইমুহুর্তে পৃথিবীর দূষিত শহরগুলির তালিকায় প্রথম স্থান দিল্লির। (Pollution)

অনেক নিষেধের পড়েও দীপাবলিতে এত আতশবাজি ফেটেছে এবং দূষণ-সৃষ্টিকারী নানা ফায়ার ক্র্যাকারের

দৌরাত্ম্য এতটাই হয়েছে যে তাতে রাজধানী ভয়ংকরভাবে দূষণে আক্রান্ত হয়েছে।

এর জন্য শুধুমাত্র হরিয়ানা আর পাঞ্জাবে কৃষকদের চাষের ‘স্টাবল বার্নিং’ দায়ী নয়, এটা মানুষের বেপরোয়া বাজি ফাটানো ও পোড়ানোর পরিণামও বটে।

আর তাই সারা দেশ যখন আনলকিং এর মুখে তখন লকডাউন হয়ে থাকতে হবে দিল্লিকে। (Pollution)

এখন এমন অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে কার্যত সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে কেজরিওয়াল সরকারকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হয়েছে।

Pollution: Delhi on the way to lockdown due to pollution
দূষণ বাড়ছে দিল্লিতে

কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রিপোর্ট জানাচ্ছে, প্রত্যেক বছরই পয়লা নভেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর দূষণের একটা প্রকোপ দিল্লিতে ভয়ংকরভাবে মাথাচাড়া দেয়।

এবারও কেজরিওয়ালের সরকার জলকামান ব্যবহার করে বাতাসের দূষণ কমানোর চেষ্টা করেছে।

তবে এইবার পরিস্থিতির অবনতি হয়, দূষিত পদার্থগুলো আরও উপরে উঠে যায়।

রাজধানীতে দূষণের পরিমাণ শতকরা ৪৮ ভাগ বেড়ে গিয়েছে। যমুনা কালো থকথকে হয়ে গিয়েছে, জল নেই।

কেজরিওয়াল ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যমুনাকে তিনি এমন দূষণমুক্ত করে দেবেন

যে সেখানে জল থাকবে, কুলকুল করে বয়ে যাবে নদীধারা, যমুনার তীরে আবার শিশুরা খেলা করবে!

কোথায়? আর এই তার নমুনা! জগৎ পারাবারের তীরে শিশুরা যে কতটা খেলা করছে সেটা তো এখন আমরা চোখের সামনে দেখতেই পাচ্ছি।

জলবায়ু সম্মেলনের সবথেকে বড় ব্যঙ্গাত্মক পরিণতি এখন দিল্লির।

ভয়াবহ দূষণের নেপথ্যে কিন্তু গাড়ির সংখ্যাও একটা মস্ত বড় কারন।

গাড়ির সংখ্যা মানেই পেট্রোল, পেট্রোল মানেই দূষণ।

একটা সময় গাড়ির সংখ্যা এতটাই বেড়ে যায় যে কেজরিওয়াল প্রশাসনকে অল্টারনেটিভ সংখ্যার গাড়ি চালানোর ফরমান জারি করতে বাধ্য হয়েছিল। (Pollution)

কিন্তু পরিস্তিতি বসে আনা যায়নি কোনো।ভাবেই।

এখন লকডাউনের কথা বলা হচ্ছে।

সেটা করোনার জন্য। কেউ কেউ বলছেন যে, লকডাউন হলে গাড়ির দূষণও কমবে।

দিল্লি এখন নিজেরই আগেকার সব দূষণের রেকর্ড ভাঙার অপেক্ষায় এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন,

পরিস্থিতি ১৯৫২ সালে লন্ডনের কুখ্যাত স্মগ, যাতে তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন, তার চেয়েও খারাপ!

এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে শহরকে বাঁচাতেই দূষণবিরোধী বিক্ষোভ, র‍্যালি, প্রতিবাদ কর্মসূচি-সহ নানা ধরনের কার্যক্রম উপস্থাপিত করছেন দিল্লির বাসিন্দারা।