শেখর দুবে: কিছুটা নারকোল কিংবা তিল সঙ্গে চিনি বা গুড় আর বাকিটা মা, দিদিমাদের জাদুস্পর্শ। এভাবেই নাড়ু তৈরি হত বাঙালি বাড়িতে। বিজয়া দশমী হোক কিংবা কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো, বাড়িতেই বিভিন্ন রকমের নাড়ু বানাতেন মাসিমা-ঠাকুমারা। খোদ কলকাতা শহরেও এর অন্যথা হত না। কিন্তু সে সব এখন অতীত, নাড়ু বানানো ভুলতে শুরু করেছে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বাঙালি পরিবারগুলি! কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগে বাগবাজার থেকে গড়িয়া বাজারে ঢুঁ মেরে সেরকমই তথ্য উঠে এল নিউজপোলের হাতে।

বাগবাজার মায়ের ঘাট থেকে শ্যামবাজারের দিকে কিছুটা এগিয়ে গেলে রাস্তার দু’পাশের বাজার। শনিবার সেখানেই দেদার বিক্রি হচ্ছে প্যাকেটজাত তিল, নারকোল, মুড়ি, খই ও চিড়ের নাড়ু। দোকান থেকে নাড়ু কিনে নেওয়ার ফাঁকে বছর ৫০-এর শিপ্রা নিউজপোলকে বলেন, ‘আমরা তো দেখে এসেছি বাড়িতেই এসব বানাতেন মা, মাসিরা৷ আমিও বানাতে পারি। কিন্তু এখন আর সময় হয় না। কিনে নিই।’ আপনার পরবর্তী প্রজন্ম কি আদৌও আর নাড়ু বানানো শিখবে? কিছুটা অসহায়ভাবেই পৌঢ়ার জবাব, ‘মনে তো হয় না।’ সঙ্গেই আফসোস করে শিপ্রা বলেন, ‘আগে বাড়িতে নারকোল নাড়ু বানালে আশেপাশের তিন চারটে বাড়িতে ছড়াত সুগন্ধ। এখন সেসব নেই।’

বাঙালি সংস্কৃতি, পুজো-আচ্চার সঙ্গে নাড়ুর সম্পর্ক প্রাচীন। দিদিমার থেকে মা, মার থেকে মেয়ে, এ ভাবেই নাড়ু বানানোর কৌশল হস্তগত হত পরবর্তী প্রজন্মের। কিন্তু এই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ছে এখন। শ্যামাবাজারে নাড়ু কিনতে আসা যুবক সম্মানের স্বীকারোক্তি অন্তত সেরকমই ইঙ্গিত করে। বাড়িতে নাড়ু বানানো হয় না? একটু হেসে সম্মান জানান, ‘না এখন আর বানানো হয় না! কিনেই নিই।’ বাঙালি বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোতে নাড়ু তৈরির রেওয়াজ উঠে যাচ্ছে, এরকমটা কেন? ‘দেখুন আমরা এখন ফোর জি থেকে ফাইভ জি-র দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। হাতে সময় কম। নাড়ু বানানোর জন্য শ্রম এবং সময় অনেকটাই ব্যয় হয়। তাই রেডিমেড নাড়ুর দিকে ঝুঁকছে অনেকেই।’ এতে স্বাদের সঙ্গে আপস করতে হচ্ছে না? সম্মান বলেন, ‘শুধু স্বাদ নয়, দিদার বানানো সেই নাড়ুতে ভালোবাসা মিশে থাকত। সেটাও মিস করি। কিন্তু উপায় নেই।’