নিউজপোল ডেস্ক: কেউ টোকাটুকি করছে কিনা, দেখার জন্য কোনও পর্যবেক্ষক নেই। সময় হয়ে গেছে জানাতে ‘‌ওয়ার্নিং বেল’‌ নেই। খাতা জমা দেওয়ার তাড়া নেই। পরীক্ষা হলের হাড়হিম ভাবটাও নেই। কারণ বাড়িতেই চলছে স্কুলের পরীক্ষা!‌ তবু কেউ টোকাটুকি করছে না। বই খুলছে না। মন দিয়ে লিখছে। সময়ে লেখা শেষ করছে। তার আগে আবার প্রশ্নপত্র দিয়ে উত্তরগুলো পড়ে নেওয়ার জন্য ১৫ মিনিট সময়ও দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যা নিকেতন স্কুলের শিক্ষকরা

এ এক অদ্ভুত স্কুলের গল্প। বেঙ্গালুরুর বিদ্যা নিকেতন। পড়ুয়াদের পড়ার বিষয়ের পরীক্ষার পাশাপাশি মূল্যবোধের এভাবেই পরীক্ষা নিয়েছে তারা। সঙ্গে নিজেদের এতদিনকার শেখানোর। কারণ পড়ুয়ারা ফেল করলে যে শিক্ষকও ফেল!‌
স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনিতা মনোজ, প্রতিষ্ঠাতা হংসা বিঠানি মনে করেন, শেখানো‌ শুধু খাতা–কলমে হতে পারে না। মূল্যবোধ শুধু ক্লাসরুমে বসে তৈরি করা যায় না। তা করতে গেলে পড়ুয়াদের বিশ্বাস করা খুব জরুরি। সেটা স্কুল কর্তৃপক্ষ যেমন করেছে, তেমন ফলও পেয়েছে হাতেনাতে। গল্পটা খুলে বলা যাক।
৮ এবং ৯ জানুয়ারি ছিল ভারত বনধ। ওই দিনই বিদ্যা নিকেতন স্কুলের নবম আর দশম শ্রেণীর পরীক্ষা ছিল। বনধের মধ্যে পড়ুয়াদের স্কুলে আসা প্রায় অসম্ভব। এদিকে পরীক্ষা কিছুতেই পিছোতে চাইছিল না কর্তৃপক্ষ। তখন এই নিয়ে আলোচনায় বসেন কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষিকারা। হংসা বিঠানির মাথায় প্রথম বিষয়টি আসে। যদি বাড়িতেই পড়ুয়াদের পরীক্ষা নেওয়া যায়!‌ অনেক বাদানুবাদের পর রাজি হন সব শিক্ষকরা।
স্কুলের তরফে কীভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে অভিভাবকদের জানিয়ে একটি সার্কুলার পাঠানো হয়। অভিভাবক থেকে পড়ুয়া— সবাই প্রথমে হতবাক। এক পড়ুয়া আবার স্কুলে ফোন করে বিষয়টি সত্যি কিনা জিগ্যেস করে বসে। ৮ এবং ৯ তারিখ সকাল ৯টায় মেল করে পড়ুয়াদের প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পড়ার জন্য ১৫ মিনিট সময়। ৯ টা ১৫ থেকে ১১টা ৪৫ পর্যন্ত চলে পরীক্ষা। পরের দিন সকাল ৮টার মধ্যে শিক্ষকদের হাতে খাতা তুলে দেয় ছাত্ররা।
টোকাটুকি উচিত কি উচিত না, এই সিদ্ধান্তটা পড়ুয়ারা নিজেরাই নিক, এটাই চেয়েছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। তারা নিজেরাই বিচার করুক নিজেদের। স্কুলের এই চাওয়াটাই পূরণ করেছে পড়ুয়ারা। খাতা দেখে তা স্পষ্ট বুঝেছেল শিক্ষকরা। কীভাবে বুঝলেন?‌ এক শিক্ষিকা জানালেন, ‘‌এত বছর ধরে পড়াচ্ছি। কে কেমন লেখে লিখতে পারে, আমাদের স্পষ্ট ধারণা রয়েছে।’‌