এতটা প্রত্যাঘাত হয়ত আশা করেনি হোয়াটস্‌অ্যাপ! সুরক্ষা সংক্রান্ত নীতি বদলে‌ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাওয়ায় নেটাগরিকদের একটা বড় অংশ ভীষণ চটেছে ফেসবুকের মালিকানাধীন ম্যাসেজিং অ্যাপটির ওপর। সেই সুযোগই কাজে লাগাতে চাইছে এলন মাস্কের ‘‌সিগন্যাল’‌ এবং ‘‌টেলিগ্রাম’‌ ম্যাসেজিং অ্যাপ। ইতিমধ্যেই টেলিগ্রামের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ কোটি ছাড়িয়েছে। গত ৭২ ঘন্টায় আড়াই কোটির বেশি ব্যবহারকারী টেলিগ্রাম ব্যবহার করা শুরু করেছেন, হিসেব দিয়ে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে সিগন্যাল সংস্থার সহ–প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান অ্যাক্টন জানান, ‘‌যা ভেবেছিলাম, ভারতের বাজারে সিগন্যালের জনপ্রিয়তা তার চেয়ে অনেক বেশি এখন। বিগত কয়েকদিনে ব্যবহারকারীর সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে, কর্মীদের রাতের ঘুম উড়েছে!‌’‌
নীতিগত বদল এনে গত ৭ জানু্্য়ারি হোয়াটস্‌অ্যাপের তরফে জানানো হয়, নয়া নীতিতে ব্যবহারকারীরা একমত না হলে এই ম্যাসেজিং অ্যাপটি তাঁরা আর ব্যবহার করতে পারবেন না। খবর ততক্ষণে দাবানলের মতো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটাগরিকদের অভিযোগ, ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর, লোকেশন, অনলাইন কেনাকাটা এবং ব্যাঙ্কিং লেনদেন সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তা ফেসবুকের হাতে তুলে দেবে হোয়াটস্‌অ্যাপ। ম্যাসেজিং অ্যাপ সংস্থার তরফে এই অভিযোগ খারিজ করা হলেও ততক্ষণে যা ঘটার ঘটে গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে জ্যান কৌমের সঙ্গে যৌথভাবে ‘‌হোয়াটস্‌অ্যাপ’ ম্যাসেজিং অ্যাপ তৈরি করেছিলেন অ্যাক্টন। পরে ফেসবুকের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করে ইস্তফা দেন তিনি। ‌তাঁর বক্তব্য, ‘‌ফেসবুকের নতুন নীতি অত্যন্ত জটিল। সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বোঝা সম্ভব নয়। কেন এই নীতি বদল, উদ্দেশ্যই বা কী, অনেকেই তা বুঝতে পারছেন না। ম্যাসেজিং অ্যাপে ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র কথাবার্তা নিয়ে ভাবেন। সহজ এবং সোজাসাপ্টা নিয়ম পছন্দ করেন তাঁরা। সিগন্যাল সেরকম পরিষেবাই দিয়ে থাকে। কোনও বিজ্ঞাপন নেই। নজরদারি নেই। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত এখানে।’‌ ভারতের বাজারে শুধু সিগন্যাল ব্যবহারকারীর সংখ্যাই বাড়েনি, নজর কেড়েছে বিনিয়োগকারীদেরও। ইতিমধ্যেই উৎসাহ দেখিয়েছেন পেটিএম প্রতিষ্ঠাতা বিজয়শেখর শর্মা এবং মাহিন্দ্রা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান আনন্দ মাহিন্দ্রা।