নিউজপোল ডেস্ক: কোন পরীক্ষায় কোন ছাত্র প্রথম হচ্ছে অথবা কে শেষ স্থান অধিকার করছে, সামনের বছর থেকে ফলাফলে আর লেখা থাকবে না সেরকম কোনও কিছুই। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এরকমই একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিঙ্গাপুরের শিক্ষামন্ত্রক। শিক্ষামন্ত্রী অং ইয়ে কাং জানিয়েছেন, তাঁরা পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের এই বার্তাই দেওয়ার চেষ্টা করছেন যে শিক্ষা কোনও প্রতিযোগিতা নয়।

শুধু পাশ-ফেল সংক্রান্ত খবরই নয়, প্রাথমিক স্তরের পরীক্ষার ফলাফলে লেখা বন্ধ হচ্ছে আরও অনেক কিছুই। সেগুলো হল: শ্রেণি এবং মানের গড়, সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন প্রাপ্ত নম্বর, পাশ নম্বরের নীচের নম্বরকে দাগানো অথবা বিশেষ ভাবে দৃষ্টিগোচর করে তোলা, নির্দিষ্ট বিষয়ের গড় ক্রম, সব মিলিয়ে মোট প্রাপ্ত নম্বর, এল১আর৫ (ইংরেজি ছাড়া পাঁচটি প্রাসঙ্গিক বিষয়ের নম্বর), এল১আর৪, ইএমবি৩ (ইংরেজি, অঙ্ক এবং সেরা তিনটি বিষয়) এবং ইএমবি১। সিঙ্গাপুরের শিক্ষামন্ত্রকের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে পড়ুয়ারা প্রতিযোগিতা এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণের বদলে মনোনিবেশ করতে পারবে শিক্ষায়। সামনের বছর থেকে প্রাথমিক স্তরে পরীক্ষার ব্যবস্থাও তুলে দিতে আগ্রহী সিঙ্গাপুর সরকার। শিক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, প্রতিটি স্কুলে শিক্ষকশিক্ষিকারা সারা বছরের কাজ অর্থাৎ শ্রেণিকক্ষের আলোচনা, ক্যুইজ এবং বাড়ির কাজের মাধ্যমে পড়ুয়াদের মান বিচার করবেন। নম্বর এবং মান, এই দুই ক্ষেত্র বিচারের জন্য সোজাসুজি এই দুটোকে ব্যবহার না করে সাহায্য নেওয়া হবে ‘কোয়্যালিটেটিভ ডেসক্রিপ্টরস’ অথবা গুণগত বর্ণনাকারী পদ্ধতির।

প্রাথমিক স্তরের ওপরে মধ্যবর্তী স্তরের (সেকেন্ডরি) পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে, পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের থেকে মনোযোগ সরানোর জন্য প্রত্যেকটি বিষয়ের নম্বরকে দশমিক বাদ দিয়ে অভগ্ন রাশিতে (হোল নাম্বর) প্রকাশ করার কথা ভাবা হয়েছে। অভিভাবকেরা প্রত্যেকটি পেরেন্ট-টিচার বৈঠকে বিশদে জানতে পারবেন তাঁদের সন্তানদের উন্নতি এবং অবনতির কথা। এই সপ্তাহের গোড়ার দিকে দেশের ১৭০০ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করাকালীন শিক্ষামন্ত্রী অং ইয়ে কাং জানান, চিরকালই প্রাপ্ত নম্বর এবং র‍্যাঙ্ক পড়ুয়াদের মধ্যে গর্বের একটি বিষয়। কিন্তু পড়ুয়াদের এটা ছোট থেকেই বুঝতে হবে, শিক্ষা কোনও প্রতিযোগিতা নয়। এটা একধরনের অনুশাসন যেটা জীবন গড়ে তোলার জন্য জরুরি।