নিউজপোল ডেস্ক: নামের পাশে অসংখ্য রেকর্ড, ফুটবল মাঠে অন্যতম সেরা পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে, ময়দানের বাইরেও তিনি মহানুভবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। অসুস্থ খুদে ভক্তকে বিমানে উড়িয়ে মাঠে এনে জার্সি দেওয়া হোক, কিংবা ক্যান্সার গবেষণা কেন্দ্রে অনুদান, সিআরসেভেনের জুড়ি মেলা ভার। সম্প্রতি তিনি আর এক মহানুভবতার নজির গড়লেন। ছোটবেলায় যখন তিনি ফুটবল অনুশীলন করতেন, তখন ম্যাকডোনাল্ডে দু’-তিনজন কর্মী লুকিয়ে তাঁকে খাবার দিতেন। সম্প্রতি তাঁদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রোনাল্ডো।
কথায় বলে, উপকারীর উপকারের কথা ভুলতে নেই। আজকের সাফল্যের পেছনে একসময় যিনি বা যাঁরা ছিলেন, তাঁদের ভুলে যাওয়া স্বার্থপরতার লক্ষণ। কিন্তু বর্তমান জুভেন্তাস তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো তাঁদের মধ্যে পড়েন না। তাই ছোটবেলার কাহিনি তিনি মনে রেখেছেন আজও। রোনাল্ডো জানিয়েছেন, ‘আমরা ক্ষুধার্ত থাকতাম। স্টেডিয়ামের পাশেই একটা ম্যাকডোনাল্ডের দোকান ছিল। সেখানে গিয়ে আমরা দরজায় টোকা মেরে বার্গার খেতে চাইতাম।’ খালি হাতে ফিরতেন না রোনাল্ডো। এডনা নামে ওই ম্যাকডোনাল্ডের কর্মী দোকানের উদ্বৃত্ত বার্গার রেখে দিতেন। তারপর তা তিনি দিতেন সিআরসেভেনকে। এডনা ছাড়া আরও দু’জনের কথা এদিন বলেছেন পর্তুগিজ তারকা। তাঁদের কারও সঙ্গেই তাঁর যোগাযোগ নেই এখন। এমনকী, খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন যে, স্টেডিয়াম সংলগ্ন সেই দোকানটি এখন বন্ধ। রোনাল্ডো একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘এডনা ছাড়াও আরও দু’টি মেয়ে থাকতেন ওই দোকানে। আমি ওঁদের আর পাইনি। পর্তুগালের অনেককেই জিজ্ঞেস করেছি, ওঁরা দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু আমার এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যদি ওঁদের খুঁজে পাই, তাহলে খুব খুশি হব। আমি তুরিন বা লিসবনে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার আমন্ত্রণ জানাতে চাই ওঁদের।’ সাফল্য পাওয়ার পর অনেকেই ভুলে যান অতীতের কথা। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সিআরসেভেনের এই ভাবনা নিঃসন্দেহ তারিফযোগ্য।