নিউজপোল ডেস্ক: ন’বছর বয়সে শচীন তেন্ডুলকরকে দেখে ক্রিকেট খেলার ইচ্ছে জাগে তাঁর। কিন্তু রোহতকে মেয়েদের জন্য কোনও ক্রিকেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছিল না তখন। ছেলেদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে খেলতে দেওয়া হত না মেয়েদের। বাধ্য হয়েই ছেলে সেজে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন বর্তমানে ভারতীয় মহিলা টি২০ দলের অন্যতম সদস্য শেফালি ভার্মা।

বাবার পরামর্শেই চুল কেটে ফেলেছিলেন তিনি। তারপর শুরু হয় প্রশিক্ষণ নেওয়া। কেউ বুঝতে পারেনি তিনি মেয়ে? উত্তরে শেফালি জানালেন, নয় বছরে ছেলে মেয়ে সকলকে একই রকম দেখতে লাগে। এর আগে অঞ্চলের সমস্ত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ঘুরেছিলেন শেফালি এং তাঁর বাবা সঞ্জীব। সকলকে অনুরোধ করেছিলেন শেফালিকে একটি সুযোগ দেওয়ার, কিন্তু কেউ শোনেননি। তবে ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলাটাও যে খুব সহজ ছিল, সেটা নয়। মাঝে মধ্যেই তাঁর হেলমেটে বল লাগত, একবার তো হেলমেটের গ্রিলই ভেঙে গেছিল। মেয়ের জন্য চিন্তা হত বলে জানালেন সঞ্জীব, কিন্তু কোনও দিন হাল ছাড়েননি শেফালি নিজে।

গত মেয়ে মাসে প্রথমবার ভেলোসিটি দলে মহিলাদের টি২০তে সুযোগ পান শেফালি। টিভিতে তাঁর খেলা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল সমস্ত সমালোচকরাই। এরপরে আসে দেশের হয়ে খেলার সুযোগ। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম ম্যাচে ০ করেছিলেন তিনি। সেই সময় সিনিয়ররা মনোবল জুগিয়েছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৩ বলে ৪৬ রান করে এখন খানিকটা স্বস্তিতে শেফালি। টিভিতে মেয়েকে খেলতে দেখে তাঁর খুব গর্ব হয়েছিল, জানালেন সঞ্জীব। শেফালি ছাড়াও আরও একটি মেয়ে এবং ছেলে রয়েছে তাঁর। দিদির দেখাদেখি, ছোট মেয়েও ক্রিকেট খেলতেই শুরু করেছে। তাকেও অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন সঞ্জীব। তাঁর আশা, রোহতক থেকে উঠে আসুক শেফালির মতো আরও মহিলা ক্রিকেটার।