নিউজপোল ডেস্ক: অসমে ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেন্স (এনআরসি) তালিকা দেখে আতঙ্কে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী। যদিও গত মঙ্গলবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে এনআরসি বিষয়ে আশ্বস্ত করতে চেয়ে তৃণমূলের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়াও সেই দিনের তাঁর বক্তব্যে সংবিধান-বিরোধী কথাও শোনা গেছিল বলে অভিযোগ তুলেছিলেন অনেকেই। এদিকে এনআরসি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গবাসীর অনেকাংশের মনেই প্রশ্ন আরও জটিল হয়েছে। এই সমস্যা মেটানোর জন্য মুসলিম সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে হাত মিলিয়েছে হিন্দু দলিত শ্রেণিরাও।

গত মঙ্গলবার কলকাতার মঞ্চ থেকে অমিত শাহ এনআরসি বিষয়ে তৃণমূল সরকার পশ্চিমবঙ্গে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। এই প্রসঙ্গেই তিনি জনগণের উদ্দেশে জানিয়েছেন, ‘আমি সবার সামনে, সব শরণার্থীকে আশ্বস্ত করছি, যাঁরা এ দেশে চলে এসেছেন, তাঁদের কাউকে ভারত ছাড়তে বাধ্য করা হবে না।’ এদিন তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, বাংলায় এনআরসি হবেই। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘ভারতে যত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান এসেছেন, তাঁদের সবাইকে নাগরিকত্ব দিয়ে দেওয়া হবে। চিরকালের জন্য দিয়ে দেওয়া হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ভাষণে ‘মুসলিম’ সম্প্রদায়ের উল্লেখ না থাকায় রাজনৈতিক ময়দানে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আতঙ্ক তৈরি হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায় ছাড়াও তফশিলি জাতি, উপজাতি, মতুয়া শ্রেণির মানুষের মধ্যে। তাই সবাই এক ছাদের নীচে আসার সিদ্ধান্তে গড়েছে যৌথ মঞ্চ। সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সভাপতি মহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘একদিকে হিন্দু ভাইরা আতঙ্কে রয়েছেন অসমের অবস্থা দেখে। সেখানে লক্ষ লক্ষ হিন্দুর নাম এনআরসি তালিকায় নেই।’ সারা ভারত মতুয়া মহাসংঘের সহ-সভাপতি সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপি সরকারই তো ২০০৩ সালে ওদেশ থেকে আসা মানুষদের, যাঁদের বেশিরভাগই হিন্দু, তাঁদের অনুপ্রবেশকারীর তকমা দিয়েছে। এখন নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন এনে আমাদের শুধু অনুপ্রবেশকারী তকমা তুলে দিয়ে শরণার্থী বলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ এই পরিস্থিতিতে যৌথভাবেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সংকল্প নিয়েছেন উপস্থিত সদস্যরা।