নিউজপোল ডেস্ক: বড় হওয়ার সময় এমন অনেক কিছুই থাকে, যেগুলো শিশু মনে গুরুতর ছাপ ফেলে যায়। এর মধ্যে কোনওটা ভাল, কোনওটা খারাপ। শিশু মনের ওপর এই বিভিন্ন অভিজ্ঞতার প্রভাবেই তৈরি হয় প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিত্ব। সুতরাং শিশু কার সঙ্গে মেলামেশা করছে, সেই ব্যাপারে অভিভাবকদের নজর রাখাটা প্রয়োজনীয়। সেটা শুধু বাইরের লোক এবং বন্ধুবান্ধবই নয়, আত্মীয়স্বজনদের ক্ষেত্রেও একই ভাবে প্রযোজ্য। বিশেষ করে, যে সমস্ত আত্মীয়স্বজনেরা অপমানজনক ব্যবহার করে থাকেন, তাঁদের সঙ্গে মিশতে বাধ্য করা অনুচিত শিশুদের।

আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে এরকম অনেকেই থাকেন, যাঁদের ব্যবহার এবং কথাবার্তার মধ্যে নিহিত থাকে তির্যক মনোভাব এবং অপর ব্যক্তিকে হেয় করার মানসিকতা। সোজাসুজি না বললেও, এঁদের বিভিন্ন কথাবার্তা এবং আচার আচরণের মধ্যে একটি ঠেস দেওয়ার ভাব থাকে, যা নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করে অপর ব্যক্তির মধ্যে। শিশু মনে যেহেতু প্রভাব পড়ার সসম্ভবনা বেশি থাকে, সেহেতু এই ধরনের আচরণ আরও গভীর ভাবে প্রভাবিত করে শিশুদের। ক্রমাগত হেয় বোধ করতে শুরু করলে, শিশুদের আত্মবিশ্বাস তৈরি হওয়ার হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়। কিশোরকিশোরীদের ক্ষেত্রে, আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরার সমস্যাও তৈরি হয়। পাশাপাশি, ক্রমাগত তির্যক মন্তব্যের স্বীকার হতে থাকলে, শিশুদের আত্মমর্যাদা বোধেও সমস্যা দেখা দেয়।

লৌকিকতার খাতিরে, বেশিরভাগ সময়েই অভিভাবকেরা শিশুদের উপদেশ দেন সকলের সঙ্গে মানিয়ে চলতে। বিশেষত, উদ্দিষ্ট ব্যক্তি যদি আত্মীয়স্বজনের মধ্যে কেউ হন, তাহলে তো অবশ্যই। ‘খারাপ লাগলেও মানিয়ে নাও’— এই জাতীয় শিক্ষাই পেতে অভ্যস্ত শিশুরা। বাবা মায়ের কথা মান্য করার জন্য তখন সেই নির্দেশ শিশুরা মেনে নিলেও, এই মেলামেশার বদলে কুপ্রভাব পড়ে শিশুর মনে এবং ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্বে।