কাকদ্বীপ: সুন্দরবন মহাবিদ্যালয় আয়োজন করেছিল দুঃসময়ের তত্ত্বভাবনা শীর্ষক আন্তর্জালিক বক্তৃতামালা। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলে আসা এই বক্তৃতামালার আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি হল শনিবার। শেষদিনে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাদপ্রতিম দার্শনিক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্রের অধ্যাপক অরিন্দম চক্রবর্তী। অষ্টপ্রাহরিক জীবন যাপনের সঙ্গে লেপ্টে থাকা বিষয়গুলোকে নিয়ে এত গভীর ও স্ফটিকস্বচ্ছ তত্ত্বানুসন্ধান তাঁর আগে কেউ করেননি বাংলা ভাষায়।

তাঁর বক্তৃতার শিরোনাম ছিল ‘সময় খারাপ’। অনবদ্য যুক্তির নিগড়ে বেঁধে তিনি বুঝিয়েছেন সময় ঠিক কি কি কারণে খারাপ হতে পারে। এদিন সভামুখ্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আর একজন বিশিষ্ট পণ্ডিত, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের এমেরিটাস অধ্যাপক সুপ্রিয়া চৌধুরী। তিনি অতুলনীয় দক্ষতায় অরিন্দমের যুক্তিবিস্তারের খাঁচা টিকে বের করে এনে শ্রোতাদের সামনে মেলে ধরেন। শুধু তাই নয়, বিপরীত পক্ষের যুক্তির সুতোটিও ধরিয়ে দেন শ্রোতাদের।

এই বক্তৃতামালার শুভ সূচনা হয়েছিল স্বনামধন্য কবি ও ইংরেজি সাহিত্যের বিশিষ্ট অধ্যাপক সুবোধ সরকারকে দিয়ে। শেষ হল দার্শনিক অরিন্দম চক্রবর্তীর বক্তৃতার মাধ্যমে। সুতরাং প্লেটোনিক পৃথিবীতে কবি ও দার্শনিকের মেলবন্ধন যতই সুদূরপরাহত হোক না কেন আয়োজকগণ কবি ও দার্শনিকের আবেষ্টনীতে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন। এছাড়াও বিশিষ্ট বক্তাদের মধ্যে ছিলেন বিখ্যাত ভাষাতত্ত্ববিদ প্রবাল দাশগুপ্ত, বরিষ্ঠ সাংবাদিক ও সমাজবিজ্ঞানের কৃতি গবেষক স্বাতী ভট্টাচার্য, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ও সাহিত্যতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ তপোধীর ভট্টাচার্য, অর্জুনদেব সেনশর্মা

মহাভারত বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামিম আহমেদ, শিবাশিস চ্যাটার্জী, দর্শনশাস্ত্রের বিদগ্ধ অধ্যাপক সৌমিত্র বসু, সানুশ্রী ভট্টাচার্য, বিশ্বভারতীর অভ্র বসু, ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য, আলাউদ্দিন মণ্ডল, দেবপ্রিয় পাল প্রমুখ। প্রায় এক হাজার শ্রোতা বেশ কয়েকদিন ধরে এই বক্তৃতাগুলো শুনেছেন, প্রশ্ন বিনিময় করেছেন। সর্বাঙ্গসুন্দর এই বক্তৃতামালার আয়োজন করে সুন্দরবন মহাবিদ্যালয় বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে বিদ্বজ্জনের।