সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুকে ঘিরে বার বার উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।

নিউজপোল ডেস্ক: সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুকে ঘিরে বার বার উঠেছে একাধিক প্রশ্ন, সামনে এসেছে বেশ কিছু অসামজ্ঞ্জস্য। তার মধ্যেই শনিবার মুম্বইয়ে মৃত অভিনেতার বাড়িতে তদন্তে পৌঁছাল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দল ও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। এর আগে সুশান্তের বাবা কে কে সিং-এর দায়ের করা এফআইআর-এর সূত্র ধরে মুম্বইয়ে তদন্তে এসেছিল বিহার পুলিশের একটি দল। আত্মহত্যার খবর প্রকাশ্যে আসার পর সুশান্তের দেহ নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মুম্বইয়ের কুপার হাসপাতালে। বিহার পুলিশের তদন্তকারীরা সেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন সুশান্তের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখতে। কিন্তু সেখানে তাঁদের সুশান্তের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখতে দেওয়া হয়নি। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে শেষ পর্যন্ত যখন সেই রিপোর্ট পুলিশ হাতে পায়, সেখানে দেখা যায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সেই রিপোর্টে নেই। এবং মৃত্যুর এতদিন পরেও কারও কাছে সেগুলি নিয়ে কোনও তথ্যই নেই।

তার মধ্যেই শুক্রবার সামনে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে ময়নাতদন্তের সময়ে কুপার হাসপাতালে গিয়েছিলেন রিয়া চক্রবর্তী । এই সব বিতর্কের মধ্যে জানা গেল AIIMS হাসপাতালের চার জন চিকিত্‍সককে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি কমিটি যাঁরা সুশান্ত সিং রাজপুতের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নতুন করে খতিয়ে দেখবেন। ডা. সুধীর গুপ্তার নেতৃত্বে এই দল রিপোর্ট ভালোভাবে যাচাই করে মুম্বই আসবেন বলে জানা গিয়েছে। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাত্‍কারে ডা. সুধীর গুপ্তা জানিয়েছেন, কুপার হাসপাতালের তৈরি করা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কোথাও মৃত্যুর সময় উল্লেখ করে স্ট্যাম্প লাগানো হয়নি। এক্ষেত্রে পুলিশের উচিত ছিল চিকিৎসকদের সঙ্গে দ্বিতীয়বার পরামর্শ করা। কিন্তু তাঁরা সেটা করেননি। যেকোনও ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে মৃত্যুর সময় জানানোটা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। তিনি আরও জানান, সুশান্তের ময়নাতদন্তের সম্পূর্ণ ফাইল তাঁর কাছে এসে পৌঁছাবে ২৩ অগস্ট। পুরোটা খতিয়ে দেখতে তাঁর অন্তত তিন-চার দিন সময় লাগবে। ২৭ অগস্ট আরও তিন জন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে তিনি মুম্বই পাড়ি দেবেন।

ডা. সুধীর গুপ্তা দিল্লি AIIMS-এর ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান। সিবিআই-এর সঙ্গে আগেও বেশ কিছু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের হাই প্রোফাইল মামলায় কাজ করেছেন ডা. সুধীর গুপ্তা। কেন্দ্রীয় আরও বহু এজেন্সির সঙ্গেও তিনি বিভিন্ন সময়ে কাজ করেছেন। চাঞ্চল্যকর যে সব মামলায় সিবিআই তাঁর সাহায্য নিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সুনন্দা পুষ্করের মৃত্যু মামলা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গোপী নাথ মুন্ডের সড়ক দুর্ঘটনা, শিনা বোরা হত্যা মামলা, জেসিকা লাল হত্যা মামলা।