নিউজপোল ডেস্ক: বুধবার কিংবদন্তি সাহিত্যিক তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিবসে শ্রদ্ধা জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের ফেসবুক দেওয়ালে বিশিষ্ট এই সাহিত্যিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মমতা। ১৮৯৮ সালে আজকের দিনেই বরেণ্য সাহিত্যিক তারাশংকর জন্মেছিলেন। বীরভূম জেলার লাভপুরে তাঁর পৈত্রিক বসবাস। তাঁর বহু লেখায় উঠে এসেছে বীরভূমের প্রান্তীয় জনপদের ছবি।

১৯১৬ সালে তারাশংকর লাভপুরের যাদবলাল হাই স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করেন। এরপর সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে এবং আশুতোষ কলেজ পড়াশোনা করেন। ছাত্র বয়সেই অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। এর প্রভাব পড়ে পড়াশোনায়। জানা যায়, রাজনৈতিক কার্যকলাপের কারণেই পড়াশোনায় তাঁর মনোযোগ টেকেনি। এর পর তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এর জন্য ১৯৩০ সালে তিনি গ্রেফতার হন।

ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি অসম্ভব টান। এক সময় নিজেকে সম্পূর্ণ সাহিত্যে নিয়োজিত করেন। সেই বাংলা সাহিত্যের আকাশে জীবন্ত নক্ষত্র রবিঠাকুর। ১৯৩২ সালে তারাশংকর শান্তিনিকেতনে গিয়ে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করেন। ওই বছরই তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘চৈতালী ঘূর্ণি’ প্রকাশিত হয়। এরপর ধীরে ধীরে বহু লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। তারাশংকর ১৯৪০ সালে বাগবাজারে একটি বাড়ি ভাড়া করে নিজের পরিবারকে কলকাতায় নিয়ে আসেন। পরের বছর বরানগরে চলে যান। ১৯৪২ সালে বীরভূম জেলা সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন এবং ফ্যাসিবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংগঠনের সভাপতি হন।

জানা যায়, কংগ্রেসের কর্মী হিসেবে তারাশংকর নিজেকে সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োগ করেন। ওই সময় পুনরায় জেল খাটতে হয় তাঁকে। একবার তিনি ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টও হয়েছিলেন। ১৯৫২ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধান পরিষদের সদস্য হন। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলি হল: নীলকণ্ঠ, ধাত্রীদেবতা, মন্বন্তর, কবি, নিশিপদ্ম, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, ফরিয়াদ ইত্যাদি। সত্যজিৎ রায় তাঁর লেখা নিয়ে ছবি করেন।