নিউজপোল ডেস্ক: গ্লোবাল ওয়ার্মিং অর্থাৎ বিশ্ব-উষ্ণায়ন আর কোনও নতুন শব্দবন্ধ নয়। পাড়ার চায়ের দোকানের বিশুদা থেকে কর্পোরেট অফিসার অবধি জেনে বসে আছেন, পৃথিবী উষ্ণতর হয়ে চলেছে। এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি কতটা, ভয়াবহ তাও মোটামুটি সবার জানা। কিন্তু যেটা আমরা অনেকেই জানি না, এই সময়ে কতটা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে পৃথিবীর জলবায়ু। গবেষকরা বলছেন, যিশু খ্রিস্টের জন্মের পর থেকে এমন ভয়াবহ তাপমাত্রার বৃদ্ধি কখনওই ঘটেনি।

২০০০ বছর ধরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে উষ্ণতর হয়েছে পৃথিবী। ২৫০ থেকে ৪০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এসেছিল ‘রোমান ওয়ার্ম পিরিয়ড’, যখন অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কবলে পড়েছিল ইউরোপ। আবার ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের ‘লিট্‌ল আইস এজ’-এ আচমকা নেমে গেছিল উষ্ণতা। এরকম বেশ কয়েকবার তাপমাত্রার ওঠা-নামা দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন সাম্প্রতিক সময়ের বর্ধিত গরম বিরাট কোনও সমস্যার বিষয় নয়। কিন্তু এ ধারণা সর্বৈব ভুল, এবং তা এক রেখচিত্রের (গ্রাফ) মাধ্যমে দেখিয়ে দিয়েছেন বার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। গত ২০০০ বছরে পৃথিবীর জলবায়ুর তথ্য সংগ্রহ করেছেন তাঁরা এবং কবে উষ্ণতা বেড়েছে বা কমেছে তা দিয়ে গ্রাফটি বানিয়েছেন। তাঁরা একটা ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন যে, এর আগে ঘটা তাপমাত্রার খামখেয়ালি পরিবর্তন একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ঘটেনি, বরং আলাদা আলাদা জায়গায় ঘটেছে।

উদাহরণ হিসেবে গবেষকরা দেখিয়েছেন, ‘লিট্‌ল আইস এজ’-এর প্রভাব ১৫ শতকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পড়েছিল কিন্তু সেটা ইউরোপে প্রভাব বিস্তার করেছিল ১৭ শতকে। জলবায়ুর এমন অস্বাভাবিকতা আরও যেসব ক্ষেত্রে ঘটেছে তা বড়জোর দুনিয়ার অর্ধেক অবধি বিস্তার করেছিল। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি এমন নয়। একই সঙ্গে অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে উঠেছে গোটা দুনিয়া। গবেষণার রিপোর্ট বলছে দুই সহস্রাব্দের মধ্যে বিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব-উষ্ণায়নের মাত্রা বেড়েছে ৯৮% শতাংশ! এই তথ্য প্রমাণ করছে, আধুনিকতা এবং যন্ত্র সভ্যতার প্রভাবে পরিবেশের যতটা ক্ষতি হয়েছে, এর আগে তেমন হয়নি।