নিউজপোল ডেস্ক: ভারতের প্রথম বেসরকারি ট্রেন তেজস এক্সপ্রেস গত ৪ অক্টোবর থেকে যাত্রা শুরু করেছে নয়াদিল্লী-লক্ষ্মৌ পথে। ভারতীয় রেলওয়ের কর্মকর্তারা একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, এই ট্রেনটি ১৯৮৯ সালের রেলওয়ে আইনকে লঙ্ঘন করেছে। আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারই কেবল এই ট্রেনের ভাড়া নির্ধারণ করতে পারবে, আইআরসিটিসি নয়। আইআরসিটিসিকে এই অধিকার দেওয়া হয়নি।
আইআরসিটিসি তাদের ওয়েবসাইট ছাড়াও পেটিএম, ফোন পে, মেকমাইট্রিপের মতো অনলাইন সংস্থাগুলির সাহায্যে টিকিট বুকিং‌–এর ব্যবস্থা করেছে।
দিল্লী-লক্ষ্মৌ রুটের তেজস এক্সপ্রেস ৫১১ কিমি পথ অতিক্রম করতে সময় নেয় ৬ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। ট্রেনের টিকিটের দাম ২৪৫০ টাকা, এসি এগজিকিউটিভ ক্লাসের জন্য এবং এসি চেয়ার কারের টিকিটের দাম ১৫৬৫ টাকা জিএসটি এবং ক্যাটেরিং সহ।
অন্যদিকে ওই একই রুটে চলা শতাব্দী এক্সপ্রেস সময় নেয় ৬ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট। ট্রেনের টিকিটের দাম ১৮৫৫ টাকা, এসি এগজিকিউটিভ ক্লাসের জন্য এবং এসি চেয়ার কারের টিকিটের দাম ১১৬৫ টাকা জিএসটি এবং ক্যাটারিং সহ। সুহেলদেব সুপার ফাস্ট এক্সপ্রেস এবং গরিব রথ এক্সপ্রেসের এসি চেয়ার কারের টিকিটের দাম যথাক্রমে ৬৪৫ টাকা এবং ৪৮০ টাকা।
রেলওয়ে আইনের ৩০(১) ধারা অনুযায়ী, ‘কেন্দ্রীয় সরকার সময়ে সময়, সাধারণ বা বিশেষ নির্দেশের সাহায্যে, মালপত্র এবং যাত্রীদের পরিবহনের জন্য পুরো কিংবা আংশিক দর নির্ধারণ করতে পারবে রেলওয়ের এবং বিভিন্ন দর বিভিন্ন শ্রেণির পণ্যের জন্য নির্ধারণ করতে পারবে এবং এই শর্ত অনুযায়ী দরগুলি প্রযোজ্য হবে, তা নির্দিষ্ট করতে পারবে।’ এছাড়াও ৫০(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেকটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে টিকিট সংক্রান্ত সমস্যার জন্য বুকিং কাউন্টারের সময়সীমা দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’
রেলওয়ের আইন লঙ্ঘন করলে বেসরকারি ট্রেনের মতো বেসরকারি সংস্থাকে জরিমানা দিতে হবে। আইনের ১৬৯ ধারা অনুযায়ী ‘বেসরকারি সংস্থা এই আইনের অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা প্রদত্ত কোনও নির্দেশ, সিদ্ধান্ত মেনে চলতে ব্যর্থ হয় বা কোনও আইন লঙ্ঘন করে, ২৫০ টাকার বেশি জরিমানা দিতে হবে এবং যে আইন লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে, তার জন্য ১৫০ টাকার বেশি জরিমানা দিতে হবে।’