নিউজপোল ডেস্ক: একই ব্যক্তির নামে একাধিক PAN কার্ডের মতো দুর্নীতি রুখতে সক্রিয় কেন্দ্রীয় সরকার। ইতোমধ্যে কয়েক লক্ষ প্যান বাতিল করাও হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, PAN-এর সঙ্গে আধার কার্ডের নম্বর লিংক করলে এই ধরনের দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে আয়কর আইন সংশোধন করা হয়। আর এবার প্যানের সঙ্গে আধার নম্বর লিংক করার সময়সীমা আরও বাড়িয়ে আগামী ৩১ মার্চের নয়া ডেডলাইন ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। তার মধ্যে সংযুক্তিকরণ না করা হলে আগামী দিনে সেই সমস্ত প্যান অকেজো হয়ে যাবে।বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে আছে ১৮ কোটির প্যান। কারণ সেগুলি এখনও আধার নম্বরের সঙ্গে লিংক করানো হয়নি। প্যান কার্ডের সঙ্গে আধার নম্বর লিংক করার সময়সীমা এর আগে কয়েক দফায় বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সর্বশেষ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণের ঘটনা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এমন সময় সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এর সময়সীমা আরও বাড়িয়ে ৩১ মার্চ করা হয়েছে। ৩১ মার্চের পরেও গুরুত্বপূর্ণ এই প্রক্রিয়া শেষ না হলে স্বভাবতই প্যানগুলি অচল হয়ে যাবে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, এ বছরের জুন পর্যন্ত ৫০.৯৫ লক্ষ প্যান কার্ড আছে। এর মধ্যে মাত্র ৬.৪৮ কোটি আয়কর রিটার্ন জমা পড়ে এবং দেশের জনসংখ্যার মাত্র দেড় কোটি মানুষ প্রকৃতপক্ষে আয় কর দেন। আয়কর দাতার এই সংখ্যা মোটেই কাঙ্খিক নয়। যে কারণে এই বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর উপরে সম্প্রতি জোর দিয়েছে সরকার। ফলে প্যানের সঙ্গে আধার কার্ডের লিংকের উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে কেন্দ্র আধারের সঙ্গে প্যান সংযুক্তিকরণের ডেটলাইন না বাড়ালে ৩১ মার্চের পর দেশজুড়ে জোরদার অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে আয়কর দফতরের তরফে। প্যান জালিয়াতি করে যাঁরা সরকারকে কর ফাঁকি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযান চলবে।

যে সমস্ত ব্যক্তির নামে একাধিক প্যান আছে এবার তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে অর্থ মন্ত্রক। সূত্রের খবর, একাধিক প্যান কার্ডের সাহায্যে বিপুল অর্থের কর জালিয়াতির গন্ধ পেয়েছে আয়কর দফতর। এই সমস্ত অপরাধীদের ধরতে AI-সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে শুরু করেছে তারা। জানা গিয়েছে, আয়ের তথ্য লুকিয়ে এবং কর ফাঁকি দিয়ে যে সমস্ত বিত্তশালী ব্যক্তি বিলাশে বিপুল টাকা খরচ করছেন তাঁদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে আয়কর দফতর। মনে করা হচ্ছে, বেআইনিভাবে একাধিক প্যান কার্ড বানিয়ে এই জালিয়াতি চলছে। প্রয়োজনে এই সংক্রান্ত যে তালিকা আছে তাতে সমস্ত সমস্ত সন্দেহজনক ব্যক্তিদের নাম যুক্ত করা হতে পারে। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের দুই শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, এর পরে প্যান-আধার লিংকের সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা আর নেই বললেই চলে।