Kolkata: অজুহাত শিশুর সঙ্গে মা কিংবা কোন মহিলা নেই বলে মেডিক্যাল কলেজের (Medical College) আইসিইউতে ভর্তি নেওয়া হল না শিশু রোগীকে।উত্তরবঙ্গের চা বাগানের শ্রমিক দীনেশ ওঁরাও (Dinesh Orao) এসেছেন তার শিশুর রক্তে ক্যান্সারের সংক্রমণ নিয়ে। উত্তরবঙ্গে আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলা হাসপাতাল থেকে শিলিগুড়ি হাসপাতাল হয়ে কলকাতা।

দীনেশের সঙ্গে এসেছেন চা বাগানের এক স্বাস্থ্যকর্মী।

তাঁরা সোমবার সকালে এসে পৌঁছান কলকাতায়। প্রথমে পিজি হাসপাতাল (PG Hospital),তারপরে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। সব জায়গা থেকেই ফেরত দিয়ে দেওয়া হয়। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইমারজেন্সি থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, আউটডোরে ডাক্তার দেখাতে।

প্রথমে আউটডোর থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেয় ডাক্তার। আবার অনুরোধ করতে, ডাক্তার আইসিইউতে ভর্তি করা এবং রক্ত দেওয়ার কথা লিখে দেন। ছোট্ট বাচ্চাটিকে আইসিইউতে ভর্তি করতে গেলে, যেহেতু সঙ্গে কোন মহিলা নেই, তার জন্য ফেরত পাঠিয়ে দেয় মুমূর্ষু শিশুটিকে।

ওই শিশুটির নাম নিখিল ওঁরাও (Nikhil Orao) (৭) খুবই অসুস্থ। এখন আস্তে আস্তে দাঁত পড়ে যাচ্ছে। শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ৪.৬ g/dL। নিস্তেজ হয়ে পড়েছে শরীর। এই মুহূর্তে ওই সাত বছরের শিশুকে মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালে ইমার্জেন্সির পাশে নোংরা জায়গায় শুয়ে রেখেছেন দীনেশ ওঁরাও। ছেলেটির যেরকম শ্বাসকষ্ট, সঙ্গে শরীরের এমন হাল। এখনই চিকিত্‍সা না পেলে খারাপ কিছু হতে পারে সন্দেহ করছেন পরিবারের লোকেরা।সঙ্গে অক্সিজেনের দরকার।

এই বিষয় নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডাঃ মানব নন্দীর (Dr. Manav Nandi) সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ‘শিশুটিকে আইসিইউ-তে রাখতে গেলে মা কিংবা অন্য কোন মহিলার দরকার হয়। নইলে ওই অসুস্থ শিশুকে দেখবে কে?

‘ রোগীর পরিস্থিতি জেনে তিনি অবশ্য ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। উত্তরবঙ্গের আলিপুর দুয়ার থেকে এই মুহূর্তে কোন মহিলার আসা সম্ভব না। যদিও বাড়ির লোকেরা চেষ্টা করেছিল। ট্রেনের টিকিট না পাওয়ার জন্য রওনা হতে পারেনি কোন ভাবে। অবশেষে সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ সুপারের সহযোগিতায়, ওই হাসপাতালের শিশু বিভাগে আইসিইউতে ভর্তি হয় ওই মুমূর্ষু শিশুটি।

আরো পড়ুন:  Private Hospital Scam: বেসরকারি হাসপাতালের নামে জমা পড়ল অভিযোগ; মামলা গড়াল আদালতে