কোনও দিন ট্রাম্পের ভাষণ শোনেননি। ইচ্ছে ছিল, শুনবেন একবার। তখনই চোখে পড়ে আমেরিকার বিদায়ী প্রেসিডেন্টের সেই টুইট। ‘‌৬ জানুয়ারি ডিসি–তে বড় প্রতিবাদ’‌। ব্যস। দেখে আর বসে থাকতে পারেননি ব্র‌্যান্ডন ফেলো। নিউ ইয়র্ক থেকে ছুটে আসেন। যদিও তখন ভাবতে পারেননি শেষ পর্যন্ত হাজতে যাওয়ার পরিস্থিতি আসতে পারে।
কারণ ফেলো তখন জানতেন না, ভাষণের পর ট্রাম্প–ভক্তরা মার্কিন ক্যাপিটল দখলের ফন্দি এঁটেছেন। যখন জানতে পারেন, তখন তিনিও পা মেলান। তার পর দেওয়াল বেয়ে উঠে আসেন ক্যাপিটলের অন্দরে। সেনেটরের দপ্তরে গিয়ে ফুঁকে আসেন গাঁজা। ধাক্কা দেন পুলিশ কর্মীদের। আবার সেলফিও তোলেন।
আর সেই সেলফি ডেটিং সাইটে পোস্ট করার পরেই রাতারাতি ‘‌হিরো’‌ বনে যান ২৬ বছরের যুবক। শয়ে শয়ে মেয়ে ফেলোর সঙ্গে নাকি ডেটে যেতে চাইছেন। তবে এই ছবিই কিন্তু ফাঁপরে ফেলেছে তাঁকে। পুলিশ শনাক্ত করেছে। এবার যে কোনও দিন হাজতে পুরতে পারে তঁাকে। কারণ ক্যাপিটলে ট্রাম্প–ভক্তদের সেই তাণ্ডবে এক পুলিশ অফিসার সহ মৃত পাঁচ জন।
ফেলোর অবশ্য এতটুকু আক্ষেপ নেই। তাঁর যুক্তি, ‘‌কাউকে মারিনি। কিছু ভাঙিনি। তবে শুধু জোরজবরদস্তি ঢুকে পড়েছিলাম।’‌ নিউ ইয়র্কে একটি দোকানে কাজ করতেন ফেলো। লকডাউনের সময় কাজ যায়। নিউ ইয়র্কের প্রশাসন ভাতা দিতে অস্বীকার করে। তাতে বিপাকে পড়েন তরুণ। এখন গাছ কেটে, চিমনি সারিয়ে দিন চলছে। ঠিকানা পুরনো স্কুলবাস।
ফেলোর কথায়, গত কয়েক মাসে প্রশাসনের করোনা নিয়ে যে ছুৎমার্গ, কড়াকড়ি চলছে, তাতেই ক্ষুব্ধ তিনি। এই লকডাউন, ‘‌অযথা’‌ বিধি নিষেধই ভাত কেড়েছে বলে বিশ্বাস ফেলোর। আর সেই বিশ্বাসে হাওয়া দিয়েছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে সেই বিশ্বাসের বশেই যাবতীয় ক্ষোভগুলো উগরে দিয়েছিলেন যুবক।
ফেলো একা নন। তাঁর সঙ্গীরাও সেদিন সেই বিশ্বাস, ক্ষোভ, অভিযোগ থেকেই তাণ্ডব করেছিলেন ক্যাপিটলে। প্রভাবিত হয়েছিলেন ট্রাম্পের ‘‌ভুলভাল’‌ টুইট পড়ে, যেখানে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারবার দবি করেছিলেন, আমেরিকার ভোটে কারচুপি হয়েছে। ফেলোর সৎ বাবা টিমোথি মনরো জানিয়েছেন, ‘‌আসলে ও যা বিশ্বাস করে, সেটাই শোনে।’‌
আর এই শোনানোর কাজটা করেছেন ট্রাম্প। শুধু ফেলো নন, তাঁর মতো হাজার হাজার মার্কিনিকে। যার ফল ক্যাপিটল তাণ্ডব। ঠিক এটাই বলছে  আমেরিকার পুলিশও।