মঙ্গলবার খেলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে ‘গ্রিনপিস’এর দুই আন্দোলনকারী প্যারাসুটে চেপে মাঠে নামেন তাঁদের সেই প্যারাসুটে লেখা ছিল ‘কিক আউট অয়েল’। আহত ফুটবলপ্রেমীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে সেই দুই আন্দোলনকারীকে শ্রীঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মিউনিখের অ্যালিয়াঞ্জ এরিনায় তখন দুই দল মাঠে নেমে গা গরম করতে শুরু করে দিয়েছে। রেফারি বাঁশি বাজালেই শুরু হয়ে যাবে কিক অফ। ঠিক সেই সময় এই বিপত্তি ঘটে। সেই দুই আন্দোলনকারী তাঁদের প্যারাসুটে চেপে মাঠে নেমে পড়েন। তাঁদের প্রতিবাদ জানানোর জন্য দুজন নিরীহ মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। কয়েকটা ক্যামেরা ভেঙে গিয়েছে। ম্যাচ সম্প্রচারকারী চ্যানেলের কয়েক জন কর্মীও জখম হয়েছেন।

মিউনিখ পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করার পর এখন মূল পাণ্ডাদের খোঁজ চালাচ্ছে। অন্য দিকে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে উয়েফা। চলতি ইউরো কাপের মূল বিজ্ঞাপনদাতা হিসেবে রয়েছে সেই গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা। সেটাই মেনে নিতে পারছে না ‘গ্রিনপিস’ নামক সংস্থা। তাই এমন কাণ্ড ঘটানো হল বলে মনে করছে ইউরো কাপ আয়োজনকারী সংস্থা।

এমন ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করে উয়েফা একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ‘খেলা বানচাল করে দেওয়ার পাশাপাশি ওদের কাজের জন্য আরও বেশি সংখ্যক মানুষের জীবন সংশয়ে হতে পারত। সমস্যায় পড়ে যেত। তাই এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করছি। আইন অনুসারে ওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ইউরো উদ্যোক্তাদের দাবি, ‘এমন ঘটনা বারবার ঘটানোর চেষ্টা করলেও আমাদের ফুটবল যজ্ঞ বন্ধ করা যাবে না।’

তবে ইউরো ও মিউনিখ পুলিশ এই ঘটনাকে কড়া হাতে দমন করার চেষ্টা করলেও ‘গ্রিনপিস’ও কিন্তু নিজেদের স্বপক্ষে বক্তব্য রেখেছে। তাদের তরফ থেকেও একটি পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ফুটবলের সঙ্গে আমাদের বিরোধিতা নেই। আমাদের বিরোধিতা একটি বিশেষ গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাকে নিয়ে। ওদের জন্য বাড়তি তেল ব্যয় হচ্ছে। আমরা সবসময় শান্তিপূর্ণ ও অহিংস ভাবে আন্দোলন করে এসেছি। এ বারও তেমনই পরিকল্পনা ছিল। তবে শেষটা ভাল হল না। যারা আহত হয়েছে তাদের জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি।’