নিউজপোল ডেস্ক:‌ তাঁর মতে তামিলনাড়ুতে থাকবেন শুধুই তামিলরা। শাসন করবেন, যাঁরা বিশুদ্ধ তামিল। এসব বোঝাতে প্রায়ই অ্যাডল্ফ হিটলারের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। শ্রীলঙ্কায় নিহত এটিটিই প্রধান প্রভাকরণের ছবি নিয়ে প্রচার করেন। এতদিন সেই কট্টরপন্থী নেতা সীমানকে পাত্তা দিত না রাজনৈতিক দলগুলো। এবার কিন্তু ছবিটা বদলাচ্ছে। তামিল জাতীয়তাবাদী দল নাম থামিজার কাটছি দল দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে তামিলনাড়ুতে। এই লোকসভা নির্বাচনে সীমানের দল একা লড়ে পেয়েছে ৪ শতাংশ ভোট।
এই নাম থামিজার কাটছি দলের অ্যাজেন্ডা মূলত দু’‌টো। তারা মূলত তামিল সংস্কৃতি নিয়ে সরব। তাদের দাবি, অতীতে তামিলদের যে ঐতিহ্য ছিল তা অ–তামিলরা এসে নষ্ট করেছে। তাঁদের জন্যই নিজেদের ভূখণ্ডে আজ অবহেলিত তামিলরা। এজন্য ঠারেঠোরে সীমান দ্রাবিড়ীয় আন্দোলনকে দায়ী করেছেন। তাঁর মতে, এই আন্দোলনের মাধ্যমেই অ–তামিলরা তামিলদের মাথায় চেপে বসেছে।

সাধারণ মানুষকে আরও একটি স্বপ্ন দেখায় সীমানের দল। তারা জিতলে তামিলদের সহজসরল জীবনযাত্রা উপহার দেবেন। ঠিক যেমন শিল্পবিপ্লবের আগে ছিল। সীমান ক্ষমতায় এলে চাষবাস, পশুপালন সরকারি চাকরি হিসেবে গণ্য হবে। তবে তামিল জাতীয়তাবোধে সুড়সুড়ি দিলেও সীমান কিন্তু জাতপাতের বিরোধী। তাঁর মতে, এই জাতপাত নিয়ে মাথা ঘামানোর কারণেই তামিল ঐক্য ধাক্কা খেয়েছে। জাতপাত না মানলে তামিলরা আবার একত্রিত হয়ে অ–তামিলদের রাজ্যছাড়া করতে পারবেন।
সীমানের শ্লেষের লক্ষ্য মূলত করুণানিধির ডিএমকে। তাঁর বক্তব্য, দ্রাবিড়ীয় আন্দোলনের নেতারা, যেমন করুণানিধি, ইভি রামস্বামী, সিএন আন্নাদুরাই তামিল ছিলেন না। তাঁরা হয় তেলুগু, নয়তো কন্নড়। তাই এই আন্দোলন করে তারা তামিলদের শাসনে রাখার চেষ্টা করেছেন। এসব বোঝাতে সীমান প্রায়ই হিটলারের প্রসঙ্গদ টেনে আনেন। তাঁর উক্তি ধার করেই বলেন, কর্তব্য ছাড়া অধিকার পাওয়া যায় না।
ডিএমকে বা তামিলনাড়ুর অন্যান্য দলগুলো এতদিন সীমানকে খুব একটা পাত্তা দেননি। দলগুলোর বক্তব্য ছিল, সীমানের এসব মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানালে বিতর্ক তৈরি হবে। তাতে তার জনপ্রিয়তা বাড়বে। কিন্তু সেসব না করেও যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে যাচ্ছেন সীমান। তাতে সত্যিই চাপে ডিএমকে, এআইএডিএমকে।