নিউজপোল ডেস্ক: বেনজির অমানবিকতার নিদর্শন চীনের গুয়াংঝৌ–এর ন্যানিং চিড়িয়াখানায়। দর্শকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের জন্য ওই চিড়িয়াখানায় একটি কচ্ছপের পিঠে বেঁধে দেওয়া হয়েছে একটি ঝুড়ি। ওই ঝুড়িতে আটকানো চীনা পতাকা। আগত দর্শকেরা সেই ঝুড়িতে টাকা ফেলছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিও। কেউ কেউ আবার বলছেন, চীনা সংস্কৃতি অনুযায়ী টাকা ছুড়ে ফেলাটা সৌভাগ্য নিয়ে আসে। সেই কারণেই নাকি এই ব্যবস্থা!
ফেসবুকে ওই পোস্ট শেয়ার করে লেখা হয়েছে, জীবজন্তদের দিয়ে টাকা রোজগার করানোর যে নির্লজ্জ পন্থা চিড়িয়াখানা অবলম্বন করেছে, সেটা নিন্দনীয়। এর জন্য অবিলম্বে চীনের জাতীয় বনদফতরের তদন্ত করা উচিত। এছাড়াও ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রাণীটিকে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হয়েছে। ভিডিওটি পোস্ট করেন চা-টিয়া নামের একজন নেটিজেন।

ভিডিওটি রেকর্ড করা হয়েছিল চীনের জাতীয় দিবসের ছুটির দিন। ওই দিনে সপরিবারে বহু মানুষ চিড়িয়াখানাটি ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। চা আরও জানিয়েছেন, প্রাণীটি একটি আফ্রিকান স্পারড কচ্ছপ যা বিশ্বের বৃহত্তম কচ্ছপগুলির মধ্যে অন্যতম। এই প্রাণীগুলি দৈর্ঘ্যে ৩০ ইঞ্চি এবং ওজনে ২০০ পাউন্ডেরও বেশি হয়। এই কচ্ছপগুলির বাঁচার জন্য উষ্ণ এবং শুকনো, প্রশস্ত স্থানের প্রয়োজন।


বিজ্ঞানীদের একাংশের অভিমত, এইরকম খাঁচা প্রাণীটির বেঁচে থাকার উপযুক্ত পরিবেশ নয়। পশুপ্রেমী সংস্থা পেটা এশিয়া–র জনসংযোগ বিভাগের আধিকারিক ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন, কচ্ছপ বন্য সম্পদ, তারা অর্থোপার্জনের মাধ্যম নয়। জনগণের দাবি অনুযায়ী, ঐ কচ্ছপটিকে অবিলম্বে অভয়ারণ্য পাঠানো প্রয়োজন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীনের মতো দেশগুলিতে চিড়িয়াখানায় জীব জন্তুদের প্রাকৃতিক নিয়মের বাইরে রেখে প্রতিপালন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে এবিষয়ে তুমুল বিতর্ক হওয়ায় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়েছে, তারা এই বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। নেট দুনিয়ায় এ নিয়ে রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গেছে। প্রশ্ন উঠেছে, বিরল এই প্রাণীদের এইভাবে দর্শকদের সামনে আনা হচ্ছে কেন! কেন তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে এভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে?