নিউজপোল ডেস্ক:‌ রাস্তায় প্লাস্টিকের চাদর বিছানো। তার ওপর বসে রয়েছেন বৃদ্ধ। হাতে স্যালাইনের সূচ বিঁধে রয়েছে। পাশে রাখা একটা লাঠিতে ঝোলানো রয়েছে স্যালাইনের বোতল। আর এক প্রবীণের হাতে ধরা রয়েছে নেজাল টিউব। সেদিকেই স্থিরদৃষ্টি তাঁর। ওই টিউবে ভরা রয়েছে তরল খাদ্য। তা থেকে নলের মাধ্যমে নাক দিয়ে খাবার ঢুকছে শরীরে।
হাসপাতাল নয়। মুম্বইয়ের পারেলের রাস্তা। মাথায় ছাদের বদলে হিন্দমাতা উড়ালপুল। পাশের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে ওঁদের। শয্যা ভাড়া করার সামর্থ্য নেই। হাসপাতালের মধ্যে বিনামূল্যের শয্যা পেতে গেলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। বেশিরভাগের হাতে এত সময়ই নেই। তাই ফ্লাইওভারের নীচে শুয়েই দিন আর রাত কাটাচ্ছেন ওঁরা। সেখানেই চলছে চিকিৎসা।
প্রতি বছর ৬৫ হাজার নতুন রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়ালে। তার সঙ্গে পুরনো রোগীদের চিকিৎসাও চলে। ফলে এত শয্যা মেলে না হাসপাতালে। বিনামূল্যের শয্যা পাওয়ার জন্যও থাকে লম্বা লাইন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দুস্থ রোগীদের হোটেল ভাড়া করারও সামর্থ্য থাকে না। তাই ফ্লাইওভারের নীচে শুয়েই চিকিৎসা পরিষেবা নেন তাঁরা। মাঝেমধ্যএ এজন্য বৃহন্মুম্বই পুরসভার কর্মীদের মুখঝামটাও শুনতে হয়। তবে এবার কিছুটা হলেও দিন বদলাতে চলেছে তাঁদের। বৃহন্মুম্বি পুরসভা কাছের দু’‌টি ধর্মশালায় থাকার ব্যবস্থা করবে এই দুস্থ ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের।