নিউজপোল ডেস্ক: করোনা অতিমারী ইস্যুতে সম্পর্কের বিশেষ পতন ঘটেছে চিন ও আমেরিকার মধ্যে। চিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই বারবার গর্জে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামনেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সে দেশে। ট্রাম্পের ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বিডেন বেজিং সম্পর্ক নরম মনোভাব পোষণ করেন বলেও অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প। তারমধ্যেই মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মুখে সে দেশে ১০০০-এর বেশি ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকদের ভিসা বাতিল করল আমেরিকা। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়েই এই চিনা নাগরিকদের ভিসা বাতিল করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান চ্যাড উলফ এই কথা জানিয়েছেন।

চ্যাড উলফ বলেন, ‘এর আগে চিনের ফিউশন মিলিটারি স্ট্র্যাটেজির সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন ছাত্র ও গবেষকদের ভিসা ব্লক করা হয়েছিল। এরা বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে গবেষণার তথ্য চুরি করতে পারেন, এই আশঙ্কাতেই ভিসা বাতিল করা হয়।’ নিজের বক্তব্যে চ্যাড উলফ আমেরিকার মাটিতে চিনের অনৈতিক ব্যবসা এবং শিল্পক্ষেত্রে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ একাধিকবার তুলে ধরেন। এছাড়া চিন আমেরিকার করোনভাইরাস সংক্রান্ত গবেষণার তথ্যও চুরি করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন উলফ। পাশাপাশি আমেরিকার উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ নিত চিন স্ট‌ুডেন্ট ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান চ্যাড উলফের আরও অভিযোগ, ‘চিনে শ্রমিকদের সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার করা হয়। সেই কারণে চিনে প্রস্তুত দ্রব্য আমেরিকার বাজারে ঢোকায় বাধা দেওয়া হবে।’ চিনের জিনজিয়া প্রদেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর অত্যাচারের যে কথা প্রকাশ্যে এসেছে, সেই বিষয়টিও নিজর বক্তব্যে তুলে ধরেন চ্যাড উলফ।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টর এক মুখপাত্র চিনা নাগরিকদের ভিসা বাতিল প্রসঙ্গে বলেন যে গত ২৯ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়ে ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর সেই ঘোষণাকেই এবার কার্যকরী করা হল। তবে চিনা সেনার সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়ি এমন চিনা পড়ুয়া ও গবেষকরা এখনও আমেরিকায় স্বাগত বলে জানিয়েছেন তিনি। আমেরিকায় চিনা পড়ুয়ার সংখ্যা নিয়ে কড়াকড়ি করার বিষয়ে আগেই নিন্দা করেছে বেজিং। আমেরিকার বিভিন্ন কলেজ ও ইউনিভার্সিটিগুলিতে প্রায় ৩৬০০০০ জন চিনা নাগরিক পড়াশোনা করেন।