নিউজপোল ডেস্ক:‌ তিনি শাক্ত দেবী। শুধু শাক–সবজির ভোগ খেতে পারেন না। তাঁর ভোগে থাকে মাছ, মাংস। তাঁকে খুশি করতে বলি দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। একটা সময় পর্যন্ত এই বলি দেওয়া ছিল খুবই সাধারণ ব্যাপার। এখন সেই রীতি অনেকটাই বিলুপ্ত হয়েছে।
দেবী মাছ, মাংস খেলেও পেঁয়াজ, রসুন খান না। তাঁর ভোগে এই দুই জিনিস থাকে না। এবার মনে হতেই পারে, পেঁয়াজ, রসুন ছাড়া মাংস?‌ তাও হয়?‌ আজ্ঞে হ্যাঁ। হয় বৈকি!‌ খেলে বোঝাই যাবে না, যে মাংসটি আসলে নিরামিষ তরকারির মতোই রাঁধা হয়েছে। এমনই তার স্বাদ। একটু বিশেষভাবে রান্না করা হয় সেই মাংস। মাংসে আদার পরিমাণ থাকে বেশি। আরও কিছু বিশেষ মশলা থাকে। কয়েক শো বছর ধরে এই বিশেষ পদ্ধতি মেনেই কালীঘাটে মায়ের ভোগের মাংস রান্না হয়। রেসিপিটা জেনে নিন, পরে কখনও আপনারও কাজে আসতে পারে।


উপকরণ—
৫০০ গ্রাম হাড় সহ মাংস (‌পাঁঠা)‌
১০০ গ্রাম দই
এক চামচ গরম মশলার, এক চামচ লঙ্কার গুঁড়ো
হলুদ, জিরে, ধনে গুঁড়ো
দু’‌ টেবিল চামচ সরষের তেল
আলু খোসা ছাড়িয়ে অর্ধেক করে রাখা
এক টেবিল চামচ আদা বাটা
অল্প টমেটোর পেস্ট
এক চামচ ঘি
একটা গন্ধরাজ লেবু
প্রণালী— মাংস ধু্য়ে দই, ধনে, জিরে, হলুদ গুঁড়ো মাখিয়ে রেখে দিতে হবে। অন্তত এক ঘণ্টা। কড়াইয়ে তেল গরম হলে গোটা গরম মশলা আর তেজ পাতা দিতে হবে। এর পর একে একে আদা বাটা, টমেটো পেস্ট, লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে কষতে হবে। তেল বেরিয়ে এলে মাংস দিতে হবে। সঙ্গে আলুও দিতে হবে। নেড়েচেড়ে ঢাকা দিতে হবে কড়াইয়ে। মাঝেমধ্যে ঢাকা খুলে নাড়তে হবে। যাতে মশলা লেগে না যায়। ঢিমে আঁচে ঘণ্টাখানেক রাঁধতে হবে। এর পর গন্ধরাজ লেবুর রস আর ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে দিতে হবে।
এভাবেই পেংয়াজ, রসুন ছাড়া মাংস রেঁধে ভোগ নিবেদন করা হয় মাকালীকে। তারাপীঠে মাকে মাছ ভোগ দেওয়া হয়। সেখানেই কিন্তু মাছের ঝোলে কোনও পেঁয়াজ, রসুন ব্যবহার করা হয় না।