নিউজপোল ডেস্ক: সময় মতো বিদ্যালয়ে আসেন না প্রধানশিক্ষক। সেই অপরাধে তাঁকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখলেন গ্রামবাসীরা। পুরুলিয়ার ঝালদায় পুস্তি গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোমবার ১৮ নভেম্বর ঘটেছে এই ঘটনা।

পুরুলিয়া জেলা শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। একাধিক অভিযোগের কারণে তাঁর এর আগে তিনবার বদলিও হয়েছে। কিন্তু তাঁর আচরণে কোনও পরিবর্তন ঘটেনি। স্থানীয় খবর অনুসারে, চলতি বছর এপ্রিল মাসে এই বিদ্যালয়ে প্রধানশিক্ষকের পদে বহাল আসেন বিপ্লব। সেই সময় থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সময় মতো বিদ্যালয়ে না এবং মিড ডে মিলের সমস্যার অভিযোগ শুরু হয়। গ্রামবাসীরা সংশ্লিষ্ট দফতরে অভিযোগ জানানোর পর প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। শাস্তিস্বরূপ গ্রামবাসীরা শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে তালাবন্দি করে দিয়েছিলেন। শিক্ষকদের উদ্ধার করার পরও বিদ্যালয় বন্ধ ছিল সাতদিন। তখন ক্লাস হত দুর্গামন্দিরে। পরবর্তীকালে বিডিও এসে মুচলেকা দিলে ফের ক্লাস শুরু শুরু হয়।

এরপর এই বিদ্যালয় থেকে মিড ডে মিলে শিশুদের মুড়ি-চানাচুর দেওয়া হলে ক্ষুব্ধ হন গ্রামবাসীরা। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলে এবার বিডিও, প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক গিয়ে সমস্যা মেটান। বিডিওর উদ্যোগে স্থানীয় অভিভাবক এবং শিক্ষা দফতরের কর্মীদের নিয়ে তৈরি হয় একটি কমিটি, যার দায়িত্ব বিদ্যালয় সঠিক ভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখা। সোমবার দিন সাড়ে ১১টা নাগাদ প্রধানশিক্ষক বিদ্যালয়ে এসে পৌঁছলে তাঁকে তৎক্ষণাৎ বেঁধে ফেলা হয় বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে। খবর পেয়ে বিডিও এই কমিটির মাধ্যমে নির্দেশ পাঠান অবিলম্বে প্রধানশিক্ষককে মুক্ত করার জন্য। এই বিষয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রধানশিক্ষক। অভিযোগের ভিত্তিতে পুস্তি গ্রামের দুই বাসিন্দা চন্দ্র কুমার এবং গুরুদাস প্রামাণিককে সেদিন রাতেই গ্রেফতার করে পুলিশ। জেলার মুখ্য বিচারপতি ঘটনায় ১৪ দিনের জেল হেফাজত দেন দুই অভিযুক্তকে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় অবর পরিদর্শকের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে পুরুলিয়া জেলার প্রাথমিক শিক্ষা দফতর।