করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই রাজ্যে চলছে বিধানসভা ভোট। রাজ্যে এখনও বাকি আরও ৪ দফার ভোট। আর তার মধ্যেই রাজ্যে লাগাতার বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে এবার কড়া নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। ভোট প্রচারে কোভিডবিধি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্বাচনী প্রচারে জনসমাবেশে লাগাম টানতে নির্দেশ হাইকোর্টের।

ভোটমুখী বাংলায় সমস্ত রাজনৈতিক দলই প্রচারে ঝড় তুলতে ব্যস্ত। রাজনৈতিক সভা, মিছিল, জমায়েত, পদযাত্রা, শোভাযাত্রা, নির্বাচনী প্রচার, জনসংযোগ সবেতেই রাজনৈতিক দলগুলি একে অন্যকে টক্কর দিতে বদ্ধপরিকর। আর রাজনৈতিক দলগুলির এহেন কর্মকাণ্ডের জন্যই হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। মামলাটি দায়ের করেছিলেন নীতিশ দেবনাথ নামে এক ব্যক্তি। সেই মামলার রায়েই প্রধান বিচারপতি টিবিএন রাধাকৃষ্ণণ এবং বিচারপতি অরিজিৎ ব্যানার্জির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ভোট প্রচারে ভিড় যাতে না হয় সেই বিষয়টি জেলাশাসক এবং সিইওদেরই দায়িত্ব নিয়ে দেখতে হবে। ভিড় যদি সামলানো না যায় সেক্ষেত্রে ১৪৪ ধারা ব্যবহার করা যাবে। মিছিল, মিটিং, বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ যাই করা হোক না কেন তাতে যথাসম্ভব সামাজিক দূরত্ব এবং শারীরিক দূরত্ব মানতেই হবে। মাস্ক পড়তেই হবে সকলকে। প্রচারে পর্যাপ্ত স্যানিটাইজারও রাখতেই হবে। বড়সড় রাজনৈতিক জমায়েত করতে নিষেধ করা হচ্ছে। কোভিড বিধি নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতা–নেত্রীদেরও প্রচার করতে হবে। জনসাধারণকে করোনা নিয়ে সতর্ক করতে হবে। কোভিড বিধি মেনেই রাজনৈতিক দলগুলি প্রচার চলছে কিনা সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনকে নজর রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কাশীপুর–বেলগাছিয়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অতীন ঘোষ বলেন, প্রচারে মাস্ক বাধ্যতামূলক করেছি। দলের কর্মী–সমর্থকদের মাস্ক দিচ্ছি। স্যানিটাইজারও পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখা থাকছেই। তবে যে বিষয়টাতে গুরুত্ব দিচ্ছি তা হল আমার প্রচারে উৎসাহিত হয়ে প্রচুর সংখ্যায় কর্মী–সমর্থকরা আসছিল এবার সেটা নিয়ন্ত্রন করব। ৭ থেকে ১০ জন কর্মী–সমর্থক নিয়ে এবার থেকে প্রচারে যাব। বাড়ি বাড়ি জনসংযোগের ক্ষেত্রে কোনও বাড়ির ভিতরে যাচ্ছি না আমরা। বাইরে থেকেই প্রচার চালাচ্ছি। আর করোনা সংক্রমণের জন্য গতবছর পুরসভার নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছিল। আর এবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন চলছে। করোনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আরও আগেই সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।

প্রসঙ্গত, রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৮১৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্ত মারা গেছেন ২০ জন। চিকিৎসকদের মতে, আরও আগে থেকেই ভোট প্রচারে লাগাম টানা উচিত ছিল। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বাংলার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলেই মত চিকিৎসকদের।