রাজ্যে করোনা সংক্রমণ যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তার জন্য বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক প্রচার ও জমায়েতকে অনেকাংশে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ভোটের এখনও চার দফা বাকি, এই অবস্থায় জমায়েতে রাশ টানার চেষ্টা করা হলেও প্রচার বাতিল করা সম্ভব নয়। এই অবস্থায় কী করা তা নিয়ে ঠিক যে সময় রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে আলাপ আলোচনা চলছে, তখনই এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে নজির গড়ল বামেরা। এ দিন আলিমুদ্দিন জানিয়ে দিয়েছে, করোনার কথা মাথায় রেখে এখন থেকে আর বড় জমায়েত করা হবে না।

বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে বড় জমায়েত বাতিল করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মহম্মদ সেলিম। তার বদলে অনলাইনে আরও বেশি করে প্রচার এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারে জোর দেওয়ার কথাই বলা হয়েছে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীদের। সেলিম জানান, “বাকি দফাগুলিতে যথা সম্ভব বড় জমায়েত এড়ানোর সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি। আমাদের লড়াই মানুষের হকের লড়াই। তাই মানুষকে সচেতন করতে হবে এবং তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে।” বড় জমায়েত না হলেও যেখানে শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করা সম্ভব, সেখানে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহারের মাধ্যমে ছোট সভা আয়োজন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বুধবার রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর থেকে যে বুলেটিন প্রকাশ পেয়েছে সেখানে দেখা গিয়েছে নতুন করে একদিনে রাজ্যে প্রায় ৬০০০ জন সংক্রমিত হয়েছেন। এই অবস্থায় কীভাবে কোভিড বিধি মেনে প্রচার করা সম্ভব তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। গতকাল একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি করতে এই সম্পর্কে কড়া রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টও। আদালতের বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কমিশনের কোভিড গাইডলাইন মেনেই প্রচার করতে হবে প্রার্থীদের। কোনও ক্ষেত্রে যদি দেখা যায় যে কেউ নিয়ম মানছেন না সেক্ষেত্রে জেলাশাসক এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দায়ী থাকবেন।