নিউজপোল ডেস্ক: কৌতুকময় অথবা গম্ভীর, গভীর অথবা নেতিবাচক, যে ধরনের চরিত্রেই অভিনয় করুন না কেন, দর্শকের মন জয় করতে পঙ্কজ ত্রিপাঠীর এই মুহূর্তে কোনও জুড়ি নেই। কিন্তু অভিনয়ের পাশাপাশি, নিজের সাফল্যের পেছনে চরিত্র নির্বাচন করার ক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন পঙ্কজ। বলেই দিচ্ছেন, নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করতে আপত্তি নেই তাঁর। কিন্তু যত টাকাই দেওয়া হোক না কেন, কোনও শিশু নিগ্রহের দৃশ্যে কখনওই অভিনয় করবেন না তিনি।

নিজের অভিনীত কোনও চরিত্রের মাধ্যমে ফাঁপা পৌরুষের বিজ্ঞাপন করতেও নারাজ তিনি। ‘মেয়েদের মতো কাঁদছিস কেন?’ অথবা বহুল প্রচারিত ‘মর্দ কো দর্দ নাহি হোতা’— এই জাতীয় ধারণায় বিশ্বাসী চরিত্রে তিনি অভিনয় করতে ইচ্ছুক নন বলেই জানিয়েছেন পঙ্কজ। সব সময়েই যে ভাল মানুষের চরিত্রে অভিনয় করতে হবে, সেরকম কোনও বাধ্যতা নেই তাঁর। কিন্তু কোনও খলনায়কের চরিত্র নেওয়ার আগে এটা ভেবে দেখেন, কোন দৃষ্টিভঙ্গি এবং কারণবশত চরিত্রটিকে নেতিবাচক ভাবে দেখানো হচ্ছে। অনেকসময়ে বিদ্রূপ অথবা ব্যঙ্গ করেও এই ধরনের চরিত্র সৃষ্টি এবং অভিনয় করা হয়। ‘আমি সমাজে যে ধরনের পরিবর্তন দেখতে চাই, নিজের অভিনীত চরিত্রের মাধ্যমে সেই লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছি,’ সংবাদমাধ্যমকে জানান পঙ্কজ, ‘ভবিষ্যতে আমি এরকম কোনও চরিত্রে অভিনয় করতে চাই যে কিনা আক্ষরিক অর্থেই ভদ্রলোক।’

পঙ্কজের মতে, আমাদের সমাজে যে ফাঁপা পৌরুষের ধারণা তৈরি করে রাখা হয়েছে, সেটা এবার ভাঙার সময় এসেছে। যেমন কান্না একটি স্বাভাবিক মানবিক প্রতিক্রিয়া। ছেলেরাও পুরুষ এবং তাঁদেরও কান্না পায়, সেটা মেনে নিতে হবে। চলচ্চিত্রকে তিনি বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেই ধরছেন, কোনও সামাজিক আন্দোলন নয়। কিন্তু চলচ্চিত্রে প্রচারিত বিষয়ে দর্শকদের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলে। সুতরাং তিনি একজন দায়িত্বশীল অভিনেতা হতে চান, যিনি মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাবই ফেলতে চান।