নিউজপোল ডেস্ক: ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য পরিষদ অথবা ওয়র্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ-এর উদ্যোগে পালিত হয় ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস’। এই বছরে তাঁদের উপজীব্য হল মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রচার এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধ (মেন্টাল হেলথ প্রমোশন অ্যান্ড সুইসাইড প্রোমোশন)। ভারতের মতো দেশের নিরিখে, আত্মহত্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। সমীক্ষা বলছে, ভারতে প্রতি বছর আত্মহত্যা করেন ২.২ লক্ষ মানুষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অথবা ‘হু’-এর পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের ১৩৫ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে সাড়ে সাত শতাংশ আক্রান্ত মানসিক রোগে। সংখ্যায় ধরলে সেটা দাঁড়ায় ১০ কোটিতে। ২০২০ সালের মধ্যে পরিসংখ্যান বেড়ে দাঁড়াবে ২০ শতাংশে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর ফলে, প্রায় দৈনিক ভাবে বেড়ে চলেছে আত্মহত্যার সংখ্যাও। গুরগাও অঞ্চলের লাইফ কোচ তিস্তা দুগগলের মতে, এর মূল কারণ হল মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে সাধারণ মানুষের অজ্ঞানতা। মানসিক রোগ নিয়ে কথা বলাটা এখনও ভারতীয় সমাজে নিষিদ্ধ। কেউ যদি নিজের অবসাদ অথবা দুশ্চিন্তার কথা বলেন, তাহলে ধরে নেওয়া হয় তিনি মানসিক ভাবে দুর্বল। এর ফলে, কেউ নিজের সমস্যার কথা প্রকাশ করতে পারেন না। পরবর্তীকালে, মানসিক রোগের কবলে পড়ে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

এই মুহূর্তে চারপাশে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা চলছে, জানালেন তিস্তা। সোশ্যাল সাইটে সবাই দেখতে পাচ্ছে অন্যরা ভাল রয়েছে, সুতরাং সেই জায়গায় পৌঁছনোর জন্য দৌড়চ্ছে সবাই। বিলাসিতার বর্ধিত প্রয়োজনীয়তা চাপ সৃষ্টি করছে মানুষের ওপর। সেই চাপ এবং পাশাপাশি কাজের চাপ, এই দুইয়ের পেষণে তৈরি হচ্ছে মানসিক রোগ। এতে করে শারীরিক ভাবেও তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা। টানা তিন চার সপ্তাহ ধরে অবসাদ চলতে থাকলে, কাজের অন্য আগের মতো উৎসাহ পাওয়া যায় না। খাওয়া এবং ঘুমের সমস্যা হয়, সমস্যা হয় মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতাতেও। ক্রমাগত নেতিবাচক চিন্তাভাবনা ঘুরতে থাকে মাথা, তৈরি হয় আত্মহত্যামূলক চিন্তভাবনাও। এই অবস্থায় অতি অবশ্যই মনোবিদের সাহায্য নেওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন তিস্তা।

পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হল পরিবার। যে কোনও মানুষের ক্ষেত্রে, সেটাই শিকড়। পরিবার যদি সমর্থক অথবা সহায়ক হয়, যেখানে মানুষ মন খুলে নিজের সমস্যার কথা প্রকাশ করতে পারেন এবং তাঁকে নিয়ে উপহাস করা হয় না, তাহলে বিষয়টা অনেকটা সহজ হয়ে যায়। বিভিন্ন সংস্থা এখন তাদের কর্মচারীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং ভাল থাকার ওপর জোর দিচ্ছে। তবে সরকারের এই বিষয়ে আইন এবং নীতির পরিবর্তন করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিস্তা।