নিউজপোল ডেস্ক:‌ দূষণ দিন দিন লাগাম ছাড়া ভাবে বাড়ছে। এজন্য দায়ী মানুষ এবং তাদের কার্যকলাপ। নিজেদের স্বার্থেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের কোনও চেষ্টাই করেনি মানুষ। অথচ এই দূষণই ডেকে আনছে ক্ষতি। শারীরিক নয়, আর্থিক ক্ষতিও ডাকছে। বিশেষত জল দূষণ। বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্ট বলছে, জল দূষণের কারণে আগামী দিনে আর্থিক বৃদ্ধি এক–তৃতীয়াংশ কমে যাবে। যেসব দেশে জল দূষণ বেশি, সেখানে ক্ষতিও বেশি।
বিশ্ব ব্যাঙ্ক গোষ্ঠীর প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস জানিয়েছেন, পরিষ্কার জলই উন্নয়নের চাবিকাঠি। দেশের জলের মান খারাপ হলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধিও থেমে যাবে। দেশবাসীর স্বাস্থ্যহানি হবে। খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যাবে। এতে অনাহার যেমন বাড়বে, তেমন দেশের আয়ও কমবে। দরিদ্র দেশ আরও দরিদ্র হবে। বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্ট বলছে, গোটা দুনিয়ায় গড়ে এক লিটার জলে দূষণ কণার মাত্রা ৮ মিলিগ্রাম। যেসব দেশে সত্যিই জল দূষণের মাত্রা এতটা বেড়েছে, সেখানে জিডিপি–র বৃদ্ধি কমেছে ০.‌৮৩ শতাংশ।
জল দূষণের প্রধান কারণ কৃষিক্ষেত্রে সারের অত্যধিক ব্যবহার। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নাইট্রোজেন সার ব্যবহার হয়। জলের সঙ্গে মিশে তা নাইট্রেটে পরিণত হয়। এই নাইট্রের শিশুদের মানসিক বিকাশ এবং শারীরিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ব্রেনের বিকাশও হয় না। কৃষিক্ষেত্রে এই সারের অত্যধিক ব্যবহার শিশুর মানসিক বিকাশ ১৯ শতাংশ কমাতে পারে। এর জেরে ভবিষ্যতের আয় কমবে ২ শতাংশ। জল দূষণ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্যও দায়ী। শিল্প উৎপাদনও ব্যহত হবে। বিশ্ব ব্যাঙ্ক গোষ্ঠীর প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাসের তাই আবেদন, এখনই উন্নত, অনুন্নত সব দেশ যদি জল দূষণ নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পদক্ষেপ করুক। তা না করলে ভবিষ্যতে সমূহ ক্ষতির মুখে পড়বে তারা।