নিউজপোল ডেস্ক: আজ থেকে দু’‌ দশক আগেও ক্রিকেট মাঠে যা ছিল নিত্য ঘটনা, আজ তা প্রায় নিশ্চিহ্ন। কারণ হিসেবে কেউ বলেন প্রযুক্তিবিদ্যার উন্নতি, কেউ আবার নিরাপত্তার প্রশ্ন তোলেন। যা-ই হোক না কেন, আসলে সেসব হারিয়েছে অবলীলায়—
মাঠে নেমে দর্শকদের অভ্যর্থনা— ১৯৯৪ সালের ঘটনা। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শচীন তেন্ডুলকরের অভিষেক। দুরন্ত ৮২ রানের করেন। অর্ধ শতরান করতেই দর্শকরা অভ্যর্থনা জানাতে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু সেই দৃশ্য আজকাল আর দেখা যায় না। বর্তমান ক্রিকেটের ক্ষেত্রে অত্যধিক নিরাপত্তা এই বিষয়টিকে অসম্ভব করে তুলেছে।


স্ট্যাম্পের পিছনের দৃশ্য— উন্নত প্রযুক্তিবিদ্যার জন্য আজকাল মাঠ ছাড়া স্টেডিয়ামের দৃশ্যও সহজেই চোখের সামনে চলে আসে। আল্ট্রা মোশন ক্যামেরা ছাড়াও স্ট্যাম্প ক্যামেরার ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বছর ৩০ আগেও উইকেটরক্ষকের পেছনে, সীমানার বাইরে একটি ক্যামেরা রাখা থাকত, যার মাধ্যমে উল্টোদিকের দৃশ্য দেখা যেত।
হেলমেটের গ্রিল— দিন দিন খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা কড়া হচ্ছে। বিশেষত ১৯৯৫ সালে রবিন স্মিথ ও জিমি অ্যাডামস বল লেগে আহত হওয়ার পর সুরক্ষা জোরদার হয়। হেলমেটের ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তন আসে। হেলমেটে বসে গ্রিল। গ্রিল ছাড়া হেলমেট পরা সনৎ জয়সূর্যের মুখটা ক্রিকেটপ্রেমীরা ভুলতে পারবেন না কোনওদিন। কিন্তু এই হেলমেটের চল এখন সম্পূর্ণ বন্ধ।


রিচি রিচার্ডসন হ্যাট— সুনীল গাভাসকার কিংবা অ্যালান বর্ডারের মতো অনেক খেলোয়াড়ই ক্রিকেট হ্যাট পরতেন। এই হ্যাট জনপ্রিয় করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের রিচি রিচার্ডসন। কয়েক বছর আগেও প্রায় নিয়মিত খেলার মাঠে দেখা যেত। এখন নেই।
৫৫ ওভারের একদিনের ম্যাচ— টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। ক্রিকেটপ্রেমীদেরও সময় নেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি পর্দায় চোখ রাখার। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও বর্তমানে ৫০ ওভারে সীমাবদ্ধ। অথচ একসময় ৬০ ও ৫৫ ওভারের চল ছিল।
টেস্ট সিরিজের মধ্যেই একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ— সাধারণত টেস্ট, একদিনের ম্যাচ এবং টোয়েন্টি-টোয়েন্টি সিরিজ ধারাবাহিকভাবে পরপর হয়ে থাকে। কিন্তু একসময় এই বাঁধাধরা নিয়মে আটক ছিল না ক্রিকেট। টেস্ট সিরিজ চলাকালীন একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতো। একদিনের ম্যাচ শেষ হলে আবার শুরু হতো টেস্ট সিরিজের বাকি ম্যাচগুলি।
ক্রিকেট ট্রাম্প কার্ডস— বেশ কয়েক বছর আগে পর্যন্তও স্কুল ছেলে–মেয়েদের মনোরঞ্জনের বিষয় ছিল ট্রাম্প কার্ড। সেখানে বিভিন্ন খেলা সংক্রান্ত তথ্য থাকত। ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও জনপ্রিয় ছিল সেই ট্রাম্প কার্ড। কিন্তু বর্তমানে ইন্টারনেট, অনলাইন গেমিংয়ের দৌলতে ঢাকা পড়ে গেছে অতীত।
একদিনের ক্রিকেটে সাদা জার্সি— ক্রিকেট মাঠ থেকে উধাও হওয়ার তালিকায় রয়েছে জার্সি। সাধারণত টেস্ট ক্রিকেটের ক্ষেত্রেই সাদা জার্সির চল দেখা যায়। কিন্তু কয়েক দশক আগেও একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাদা জার্সির চল ছিল।
হাত দিয়ে স্কোর পাল্টানোর দৃশ্য— ক্রিকেট মাঠের স্কোরবোর্ড বদলের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের আবিষ্কার হয়নি তখনও। হাত দিয়েই পাল্টাতে হতো স্কোর। প্রতি বলে যখন স্কোর বদল করতে হতো তখন নম্বর বদল করার সময় দেখা যেত বোর্ডের আড়ালের মানুষগুলিকে। হাতে গোনা কয়েকটা স্টেডিয়াম (অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবোয়ে) ছাড়া এখন আর দেখা যায় না।
বিজ্ঞাপনের বহর ছিল না— কতকিছুই বদলে গেছে এখন! স্টেডিয়ামের ঘাস থেকে শুরু করে খেলোয়াড়ের মাথার টুপি, সবজায়গায় কোনও কোনও বিজ্ঞাপনের ছবি। অথচ একটা সময় ছিল, এসবের কোনও চল ছিল না।
ড্রেসিংরুমেও উড়ত ধোঁয়া— ক্রিকেটে তামাকজাত দ্রব্যের স্পনসরশিপ নেওয়া হয় না। অথচ টানা প্রায় ৩০ বছর ক্রিকেটে স্পনসরের তালিকায় ছিল সিগারেট কোম্পানি। এমনকি ড্রেসিংরুমেও সিগারেট টানা হতো।
রোদ থেকে বাঁচতে হোয়াইট জিঙ্ক ক্রিম— ক্রিকেট মাঠে ক্রেইগ ম্যাকডারমট, অ্যালান ডোনাল্ড, অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের মুখটা মনে পড়ছে? দুই গাল কিংবা ঠোঁটে সাদা রঙের জিঙ্ক ক্রিম! ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য ক্রিকেটাররা ব্যবহার করত এই বিশেষ ক্রিম। এখন সেই চল উঠে গেছে বললেই চলে।